জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতি রক্ষায় সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে: রাষ্ট্রপতি খুলনা-বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী সৌদি রুটে বিমানের ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম : রুবিও শ্যামনগরে খোলপেটুয়া নদীতে প্রতিমা বিসর্জনে মিলনমেলা কালাই থানায় ঢুকে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার নোয়াখালীতে মাদক সেবনের দায়ে দুজনের কারাদণ্ড লাখাইয়ে প্রতিমা বিসর্জ্জন এর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি হলো ৬ দিন ব্যাপী শারদীয় দূর্গা পূজা। পীরগাছায় নশিকের সুপারভাইজারকে হত্যা; খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি লাখাই থানা পুলিশের অভিযানে ১৩ পিস ইয়াবা সহ গ্রেফতার -০২। পীরগাছায় কৈকুড়ী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইদুল ইসলামের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন মোংলায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব ঝিনাইগাতী সীমান্তে লেবু বাগান থেকে ৮৪ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার উলিপুরে বাচ্চু হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন আসামী আটক হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার আদমদীঘিতে বিএনপি নেতা চঞ্চলের পূজামন্ডপে আর্থিক সহায়তা প্রদাণ আদমদীঘির আড়াইল সিদ্দিক হোসেন এতিমখানার নতুন ভবনের জায়গা নির্ধারণ উপলক্ষে দোয়া উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে - প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ২৭ অক্টোবর আদমদীঘির কুন্দগ্রাম ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবুর পূজামন্ডপ পরিদর্শন ও অর্থ সহায়তা কুলিয়ারচরে ফ্রিজ কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ফাইনাল অনুষ্ঠিত

লাখাইয়ে প্রতি বছরের ন্যায় গঙ্গাজলে (বেলেশ্বরী) পূজা অনুষ্ঠিত।

লাখাইয়ে প্রতি বছরের ন্যায় গঙ্গাজলে (বেলেশ্বরী) পূজা অনুষ্ঠিত। লাখাইয়ে নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে পালিত হলো সনাতন ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য আর উৎসাহ-উদ্দীপনায় মধ্য দিয়ে প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও গঙ্গাদেবী (বেলেস্বরী)পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মধু কৃষ্ণের ত্রয়োদশী উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার লাখাই উপজেলার সুতাং নদীর পূর্বপাড়ে বেকিটেকা গ্রামে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। উৎসবের মূল আকর্ষন সুতাং নদীতে ভক্তদের (বারুনি) স্নান করা,কিন্তু এ বছর শিল্প্যবর্জ্যের দূষণের গন্ধের কারনে কেউ কেউ নদীতে স্নান করলেও বেশির ভাগ মানুষ নদীর পাড়ের ডোবার মধ্যে স্নান করছেন। এ উপলক্ষে ভোর থেকেই হবিগঞ্জসহ এর পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলাগুলো থেকে ভক্তরা আসতে থাকেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভক্তদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠে বেলেস্বরী মন্দির প্রাঙ্গন। মাহাদেব ও গঙ্গা দেবীর পূজার মাধ্যমে এ উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। জনশ্র“তি মতে জানা যায়, বহু যুগ পূর্বে জনৈক সাধু ব্যক্তি পূণ্য অর্জন লাভের আশায় গঙ্গায় স্নান করার ইচ্ছা পোষন করেন। কিন্তু আর্থিক সংকটে তার গঙ্গায় গিয়ে স্নান করা হয়ে উঠে নি। মনো-বাসনা পূরনে ভগবান স্বপযোগে তাকে নির্দেশ দিলেন বেকীটেকা গ্রামের নদীতে স্নান করলে পূণ্য অর্জন সম্ভব। সাধুব্যক্তি স্বপ্নযোগে পাওয়া নির্দেশ মোতাবেক মধু কৃষ্ণের ত্রয়োদশী দিনটিতে বেকীটেকা নদীতে স্নান করে মনোবাসনা ও পূণ্য অর্জন লাভ করেন। পরবর্তীতে সাধুব্যক্তির ঈশ্বরিক প্রদত্ত নির্দেশ লোকমুখে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই নিজ মনো-বাসনা পুরনে নদীতে স্নান করেন। এতে ভক্তদের কাংখিত ফল প্রাপ্তিসহ দিনকে দিন পবিত্রতম স্থান হিসেবে এর প্রসার ঘটে। বেলেস্বরী ও সুতাং নদীর তীরবর্তী স্থানে গড়ে তোলা হয় বেলেস্বরী (গঙ্গাদেবী) মন্দির। মধু কৃষ্ণের ত্রয়োদশী উপলক্ষে আয়োজন করা হতো বাৎসরিক উৎসবের। ভক্তদের কাছে স্থানটি রূপ নেয় তীর্থক্ষেত্রে। উৎসব উপলক্ষে ভক্তরা তাদের মনকামনা পূরনে নদীতে নেমে গঙ্গাদেবীকে প্রনাম ও দেবীর সন্তুষ্ঠিতে ফলমূল, কবুতর, ছাগল, কলা, নারিকেল সহ নানা দ্রব্যদি জলে ছুড়ে উৎসর্গ করে থাকেন। সেগুলো আবার প্রসাদ স্বরূপ অনেকে সংগ্রহ করেন। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বেকীটেকা গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবহিত বেলেস্বরী নদীটি (যা গঙ্গা নদীর সাথে যুক্ত ছিল) চড় পড়ে একেবারেই শুকিয়ে গেছে। শধুমাত্র মন্দির সংলগ্ন সুতাং নদীটিতে হাটুযুক্তপানি বহমান রয়েছে। তীর্থক্ষেত্র হওয়ায় কাদাযুক্ত ও ঘোলা হাটুপানিতে স্নান করেই তুষ্টি মেটাতে দেখা গেছে ভক্তদের। উৎসবকে কেন্দ্র করে হরেক রকমের পসরা ও খাবারের দোকান নিয়ে বসেন দোকানীরা। নদীর দুপাশে জমে উঠে মেলা। বেলেস্বরী তীর্থক্ষেত্রের নামের সাথে মিল রেখে মেলাতে প্রচুর বেলের আমদানী হয়। তবে দাম ছিল ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। আমদানীকৃত বেল ছোট থেকে মাঝারি সাইজের হালি প্রতি মূল্য ছিল ১০০-১২০ টাকা, বড় সাইজের ২০০ থেকে ৪০০ টাকা দাম হাকাতে দেখা যায়। মেলাতে স্থান ভেদে কোথাও কোথাও বসে জুয়া ও গানের আসর। সার্বিক নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ প্রশাসন। এ সম্পর্কে বারুণীতে আসা এক ভক্ত জানায়, আমি প্রতি বছর বারুনি স্নানে আসি। উৎসব উপলক্ষে যানবাহনে অন্যদিনের তুলনায় ভাড়া ছিল তিনগুন। উৎসব উদযাপন কমিটির সদস্যরা জানায়, এই উৎসবে ভারত সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হিন্দু মুসলিম সহ নানা ধর্মের লোকজন এসে থাকেন। এ ব্যাপারে লাখাই উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রাণেশ গোস্বামী  জানান, প্রতি বছরের কৃষ্ণপক্ষের মধুকৃষ্ণার ত্রয়োদশ তিথিতে বেলেশ্বরী নদীতে পূণ্যস্নান করতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জড়ো হন।
Tag
আরও খবর