ছয় ঋতুর দেশ বাংলাদেশ, একসময় প্রতিটি ঋতু নিজের মতো করে জানান দিত। তবে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশের ওপর লাগামহীন হস্তক্ষেপে আজ ঋতুচক্রের স্বাভাবিকতা ভেঙে পড়েছে। এখন আর ছয় ঋতুর বৈচিত্র্য আগের মতো চোখে পড়ে না।ষড়ঋতুর বর্ষা মানে আষাঢ় ও শ্রাবণ—এই দুই মাসে একসময় টানা বৃষ্টি হতো। কিন্তু এ বছর আশাশুনিতে আষাঢ় ও শ্রাবণের প্রথম ভাগেও বৃষ্টি ছিল অন্য অন্য বছরের তুলনায় বেশী। তবে মাসের মধ্যেভাগে এসে একটানা বৃষ্টিতে জনজীবন যেমন ভোগান্তিতে পড়েছে, তেমনি ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন একদল কারিগর—ছাতা মেরামতকারীরা।আশাশুনি উপজেলার বাজারগুলোতে বর্ষা এলেই ফুটপাতে বসে ছাতা মেরামতের দৃশ্য এখন পরিচিত। বিশেষত আশাশুনি সদর বাজার, বুধহাটা, বড়দল ও দরগাহপুর বাজারে বর্ষাকালে বেড়ে যায় এসব ছাতার কারিগরের কর্মচাঞ্চল্য।এদের একজন হলেন বুধহাটা বাজারে রাস্তার মোড়ে বসা প্রবীণ ছাতার কারিগর রবীনদাস (৪৫)। তিনি বলেন,“২০ বছর ধরে ছাতা মেরামত করছি। বৃষ্টি হলেই ছাতার কাজ বাড়ে। আগের দিনে বিভিন্ন জেলা থেকে কারিগররা আসতেন। এখন আমরা আশাশুনির লোকেরাই এই কাজ করে যাচ্ছি।”একই কথা জানান তরুণ কারিগর রিয়াজুল (৩২)। তিনি বলেন,“বছরের অন্য সময় তেমন কাজ থাকে না। বর্ষা এলেই সবাই ছাতা নিয়ে আসে। কেউ কেউ একসঙ্গে ৩-৪টা ছাতা নিয়ে আসে মেরামতের জন্য।”তবে এই কারিগরদের একটি বড় সমস্যা হলো স্থায়ী বসার জায়গার অভাব। ফুটপাতে বসে কাজ করলেও মাঝে মাঝে বাজার কমিটির কেউ কেউ কিংবা পুলিশ উঠে যেতে বলেন। এতে তারা বিপাকে পড়েন।বড়দল বাজারে বসা আরেক কারিগর রফিকুল ইসলাম বলেন,“আমরা গরিব মানুষ। ফুটপাতে বসেই ছাতা ঠিক করি। কেউ জায়গা দিচ্ছে না। আমরা চাই, আশাশুনি উপজেলা বা ইউনিয়ন পরিষদ আমাদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ করুক। যেন শান্তিতে কাজ করতে পারি।”এই দাবি শুধু রফিকুল,রবীনদাস বা জব্বারের নয়, আশাশুনির সকল ছাতার কারিগরেরই। বর্ষাকালে যাদের কাজ মানুষকে ভিজে যাওয়া থেকে রক্ষা করে, তাদেরও প্রয়োজন একটু নিরাপদ আশ্রয়—কোনো নির্দিষ্ট জায়গা, যেখানে নির্বিঘ্নে তারা কাজ করতে পারবেন।আজ যখন আমরা জলবায়ুর পরিবর্তনে অতিষ্ঠ, তখন ছাতার মতো একটি সাধারণ জিনিস হয়ে উঠেছে অপরিহার্য। আর সেই ছাতা টিকিয়ে রাখতে যাঁরা কাজ করেন—তাঁদের জীবনেও বর্ষা যেন এনে দেয় একটু কদর। কিন্তু তাদের জীবনেও চাই স্থায়িত্ব, চাই স্বীকৃতি।
৭ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ৫৮ মিনিট আগে
১০ ঘন্টা ৪৯ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে
১২ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে
১২ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
১২ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে