চন্দনাইশে চোলাই মদসহ মৌসুমী হিজড়া গ্রেপ্তারে স্বস্তিতে এলাকাবাসী শারদীয় দুর্গোৎসবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি দাশ দিনাজপুরে প্রধান মন্ত্রীর পক্ষ থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা উপহার প্রদান চট্টগ্রাম উত্তরে প্রদীপ সামগ্রীর সেরা বিক্রেতা বারইয়ারহাটের মেসার্স ছালেহ ইলেকট্রিক ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: রাষ্ট্রপতি রাজনীতি-আমলাতান্ত্রিক দুষ্টচক্রের হাতে রাষ্ট্রসংস্কার জিম্মি: টিআইবি ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার: দুর্গাপূজার শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী আল-আমিন হোসেনের লেখা কবিতা "মেঘকন্যা" নাগেশ্বরীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানালেন বিএনপি নেতা সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী আজিজুল হক অভয়নগরে পুড়াখালী তা'লিমুল কুরআন মাদ্রাসায় কুরআনের পাখিদের সবক অনুষ্ঠিত সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার প্রতিবাদে চন্দনাইশে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ গলাচিপায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে দৈনিক কালবেলার ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন লাখাইয়ে ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত রোমান মিয়া গ্রেফতার। মোটরসাইকেলের সামনেও বসাতে হবে নম্বরপ্লেট, সময়সীমা ১৫ নভেম্বর সর্বদা পাশে থেকে সহোযোগিতার আশ্বাস এমপি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের শ্যামনগরে উপজেলা অভিযোজন পরিকল্পনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত। লোহাগাড়ায় ব্যবসায়ী অপহরণ, স্বামীকে ফেরত চান স্ত্রী দেবহাটায় শামীম হত্যা মামলায় দুই আসামি আটক শেরপুরে তথ্য অধিকার ও সেবাপ্রাপ্তি বিষয়ক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত মা ইলিশ রক্ষায় পদ্মায় রাতভর যৌথ অভিযান, ১ লাখ ১০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ জাল জব্দ

শিক্ষার্থী কম থাকায় যশোরের ২৬ স্কুল একীভূত করার উদ্যোগ

যশোরের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় এক বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। জেলার ২৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পাশের অন্য বিদ্যালয়ের সঙ্গে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এর প্রধান কারণ হলো এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ জনের নিচে নেমে আসা, যা শিক্ষা কার্যক্রমকে অকার্যকর করে তুলেছে। তবে এই সিদ্ধান্ত শৈত্যপ্রবাহের কারণে নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা শিক্ষার্থী সংকটের ফল।প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, যশোরের অনেক বিদ্যালয়েই শিক্ষার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে মাত্র ৮ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাস চলছে। এই সংকটের পেছনে বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে।গ্রামীণ এলাকায় জন্মহার কমে যাওয়ায় শিশু শিক্ষার্থীর সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই কম।যেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কম, সেখানেও শিক্ষক সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। এর ফলে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ শিক্ষক বেতন ও অন্যান্য খাতে ব্যয় হচ্ছে, কিন্তু শিক্ষার মান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।কিছু কিছু এলাকায় কাছাকাছি একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকায় শিক্ষার্থী ভাগ হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে প্রতিটি স্কুলেই শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম থাকছে।অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বেসরকারি স্কুল বা শহরের বড় স্কুলগুলোতে ভর্তি করাচ্ছেন।কোনো কোনো এলাকায় বস্তি উচ্ছেদের ফলে সেখানকার শিক্ষার্থীরা পাশের স্কুল থেকে চলে গেছে।প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ জনের কম, সেগুলোকে নিকটবর্তী বড় এবং পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী রয়েছে এমন বিদ্যালয়ের সঙ্গে একীভূত করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের নতুন বিদ্যালয়ে স্থানান্তর হবে। এর ফলে, তারা আরও উন্নত সুযোগ-সুবিধা এবং বেশি শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে পড়াশোনা করার সুযোগ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই উদ্যোগের প্রথম ধাপে ১৬টি বিদ্যালয়ের তালিকা প্রস্তুত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। বর্তমানে এই সংখ্যা বেড়ে ২৬টিতে দাঁড়িয়েছে।এই সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদিকে, কিছু অভিভাবক এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, এতে তাদের সন্তানদের শিক্ষার মান উন্নত হবে। কারণ, নতুন বিদ্যালয়ে তারা আরও বেশি শিক্ষক ও উন্নত অবকাঠামো পাবে। অন্যদিকে, কিছু অভিভাবক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভয়, এতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের খরচ বাড়বে এবং নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে সমস্যা হতে পারে।অনেক শিক্ষকও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে চিন্তিত। তাদের মতে, এতে অনেক শিক্ষকের পদ শূন্য হয়ে যাবে এবং তাদের চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করছে বলে জানিয়েছে।এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়া শুধু যশোর নয়, সারা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে সরকারের একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। এর উদ্দেশ্য হলো অপ্রয়োজনীয় স্কুল বন্ধ করে সরকারের অর্থ সাশ্রয় করা এবং সেই অর্থ দিয়ে অবশিষ্ট স্কুলগুলোর মান উন্নয়ন করা।জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এই বিষয়ে বলেন, "এই পদক্ষেপ একটি অস্থায়ী সমাধান। যদি কোনো কারণে বন্ধ হওয়া এলাকায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তবে বিদ্যালয়গুলো পুনরায় চালু করার বিষয়ে বিবেচনা করা হবে। তবে আপাতত, আমাদের লক্ষ্য হলো সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা।"

আরও খবর