জোরারগঞ্জে জামাল উদ্দিনের উদ্যোগে ৫ শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান শেরপুরের শ্রীবরদীর বগুলাকান্দি-জুলুংগা আশার আলো সিবিওতে গাভী পালন বিষয়ক প্রশিক্ষণ ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকিট সংগ্রহে রোগীদের ভোগান্তি চরমে শ্যামনগরে লিডার্সের আয়োজনে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও উপকারভোগীদের সংলাপ দেওয়ানগঞ্জে বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু জিয়ানগরে জমির বিরোধে হাতুরি দিয়ে হামলা আহত-১ কচুয়ায় ৫ প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিকারের জরিমানা নোয়াখালীতে ছাত্রদলের বিশাল শোভাযাত্রা, নেতৃত্বে নতুন উদ্দীপনা নোয়াখালীতে ছাত্রদলের বিশাল শোভাযাত্রা, নেতৃত্বে নতুন উদ্দীপনা নোয়াখালীতে সিএনজি ধাক্কায় প্রাণ গেল এসএসসি পরীক্ষার্থীর বেইজিংয়ে বাংলাদেশ ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক লাখাইয়ে বোরোধান কর্তনে হারভেস্টার মালিকদের সিন্ডিকেট,যেন মরার উপর খাঁরার ঘাঁ,,,, রাতের মধ্যে ঢাকাসহ ১২ অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস নোয়াখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থীর মৃত্যু মসজিদের তালা ভেঙে দানবাক্সের টাকা লুট গণ সংবর্ধনায় সিক্ত হলেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি সাবিরা সুলতানা মুন্নি জামায়াাতে ইসলাম আফিম মাদকের চেয়েও বিপজ্জনক: বুলু শ্রীবরদীতে গাভী পালন বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত নারিকেলবাড়িয়া হাটে আধিপত্যের লড়াই: সবজি বাজারের স্থান পরিবর্তন নিয়ে উত্তপ্ত বাঘারপাড়া লালপুরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

২১০ দিনে কোরআনে হাফেজা হলেন ছালমা

নোয়াখালীর মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া। নদী ভাঙন, জীবন-জীবিকার টানাপোড়ন, শিক্ষা-সংস্কৃতির সীমাবদ্ধতার মাঝেও কোরআনের জ্যোতি  ছড়িয়েছেন ছোট্ট এক মেয়ে ছালমা আক্তার। মা-বাবার স্বপ্ন মেয়েকে  হাফেজা বানাবেন। সে  উদ্দেশ্যে ভর্তি করা হয় একটি হেফজ মাদ্রাসায় । মাত্র ১২ বছর বয়সে তার মেধা ও একাগ্রতায় ২১০ দিনে পবিত্র কোরআন হেফজ সম্পন্ন করে সে। যেখানে স্বাভাবিকভাবে একজন শিক্ষার্থীর কোরআন হিফজ করতে কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই বছর সময়ের লেগে যায়। সেখানে ছালমা নিজের ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম কাজে লাগিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে হাফেজা হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছে।
 
ছালমা আক্তার নোয়াখালী দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডর ছারোয়ার ও আমেনা দম্পতির কন্যা। সে মারকাযুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। তার এ কৃতিত্বের জন্য মাদ্রাসার পক্ষ থেকে দেওয়া হয় সম্মাননা। ছালমার এ অর্জন শুধু পরিবার নয় গোটা এলাকাকে গর্বিত করেছে।

স্থানীয়রা জানান, মহান আল্লাহপাকে মেহেরবানীতে ছালমার মাত্র ৭ মাসেই সম্পূর্ণ কোরআন হিফজ করা সম্ভব হয়েছে। এটি মহান রাব্বুল আলামিনের বিশেষ রহমত ও মহানগ্রন্থ আল কুরআনের বিশেষ মুজিজা (অলৌকিকত্ব)। তার এই সাফল্য অন্য মেয়েদেরও অনুপ্রেরণা জোগাবে ইসলামি শিক্ষায় এগিয়ে যেতে।

ছালামা আক্তার বলেন, “ওস্তাদ এবং মা বাবা তার জন্য অনেক মেহনত করেছে। তাদের মেহনত ছাড়া আমি কিছুই করতে পারতাম না। আমার এই সফলতা সবার মাঝে বিলিয়ে দিতে চায়। আমার মত যেন অন্য মেয়েরাও হাফেজা হতে পারে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন”।
 
একজন অভিভাবক বলেন, একসময় মানুষ মনে করতো মেয়েরা কেন হাফেজা হবে। তারা তো পুরুষের মত নামাজ পড়াতে পারবেনা।  কিন্তু একজন মেয়ে যদি ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত হয় তাহলে পুরো পরিবারে শান্তি আসবে। একজন আদর্শ নারী সমাজের ভিত্তি। আমিও আমার মেয়েকে এই মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছি। সে ৬ পারা হেফজ করেছে। সবাই তাদের জন্য দোয়া করবেন।
 
মাদ্রাসার প্রধান হাফেজ মাওলানা রাকিবুল ইসলাম বলেন, “আমরা জানুয়ারিতে ৩০ জন ছাত্রী নিয়ে মাদ্রাসার কার্যক্রম শুরু করি। এর মধ্যেই মাত্র ৭ মাসে ছালমা কোরআন হিফজ শেষ করেছে। আল্লাহর রহমতে এটি সম্ভব হয়েছে। আমরা দোয়া করি, সে যেন বড় আলেমা হয়ে দ্বীনের খেদমত করতে পারে।”তিনি আরও বলেন, এখানে শুধু হিফজ নয়, বাংলা, ইংরেজি ও আরবি শিক্ষার বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে মেয়েরা ধর্মীয় জ্ঞান ছাড়াও আধুনিক শিক্ষায় দক্ষ হতে পারে।

ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে অসম্ভব বলে যে কিছু নেই তা ছালমা দেখিয়ে দিয়েছে। ছালমার এই অর্জন শুধু তার পরিবারের নয়, পুরো এলাকার জন্য গর্বের। সবাই দোয়া করছেন ছোট্ট এই হাফেজা একদিন জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করবে দেশ ও জাতিকে।
আরও খবর