আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত: শ্রীবরদী উপজেলা কারিতাস সীডস কর্মসূচির সিবিও-নেতৃবৃন্দর সক্রিয় অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত: শেরপুর সদর উপজেলা কারিতাস সীডস কর্মসূচির সংলাপ ফোরামের সক্রিয় অংশগ্রহণ ঝিনাইগাতীর শালচূড়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে ইউএনও মো. আল-আমীন ঝিনাইগাতীতে অপরিচ্ছন্নতার দায়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আট বছর পর হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন, আসামিদের গ্রেপ্তার, আলামত জব্দ: পুরস্কৃত হলেন সিআইডি পরিদর্শক মোস্তাফিজ তিস্তা প্রকল্পে সহায়তা করতে চায় নেদারল্যান্ডস নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ব্যবস্থা নেবে সরকার মাভাবিপ্রবি জামালপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সভাপতি নাফিজ ও সম্পাদক সিয়াম ‎মোংলায় বিশাল পলিথিন সিন্ডিকেটের সন্ধান: ৩ হাজার কেজি জব্দ, ব্যবসায়ীর জরিমানা ‎ পীরগাছায় কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে কৃষকদলের মতবিনিময় পবিপ্রবি ছাত্রদলের উদ্যোগ, প্লাস্টিকের বোতল দিলেই গাছ নোয়াখালীতে ঘুমন্ত ভগ্নিপতিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, শ্যালক গ্রেপ্তার চৌদ্দগ্রামে দুর্যোগ প্রশমন দিবস: র‍্যালি, আলোচনা ও মহড়া অনুষ্ঠিত ঝিনাইগাতীতে দলিল লেখক সমিতির ১১ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন লালপুরে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত উলিপুরে আন্তর্জাতিক দূর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত অটোরিকশার গ্যারেজে ইয়াবা ও আগ্নেয়াস্ত্র, গ্রেপ্তার ৩ ঝিনাইগাতীতে উপজেলা প্রশাসন ও করিতাসের যৌথ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উদযাপন ঝিনাইগাতীতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উদযাপন মঞ্জুয়ারা খাতুন হত্যা মামলা তদন্তে পিবিআই, যুবদল নেতাসহ ১১ জন আসামি, বাদী-বিবাদী পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

সীমান্তে বিএসএফ'এর গুলিতে নিহত ফেলানীর মৃত্যুর একযুগ আজ



আজ ০৭ জানুয়ারি, কুড়িগ্রাম সীমান্তে কিশোরী ফেলানী হত্যার এক যুগ। 


দেশ-বিদেশে আলোচিত এ নির্মম হত্যাকান্ডের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিচার পায়নি তার পরিবার। বিচারিক কাজ ভারতের উচ্চ আদালতে ঝুলে থাকায় এখনও ন্যায় বিচারের আশায় অপেক্ষার প্রহর গুনছেন ফেলানীর বাবা-মা। এদিকে করোনা পরিস্থিতিতে বিচারিক কাজ বিলম্বিত হলেও শেষ পর্যন্ত ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সীমান্ত হত্যা বন্ধের প্রত্যাশা বিশিষ্টজনদের। 

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে বাবার সাথে কাটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় বিএসএফ সদস্য অমীয় ঘোষের গুলিতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হয় বাংলাদেশী কিশোরী ফেলানী খাতুন। ফেলানীর মরদেহ কয়েক ঘন্টা কাটাতারে ঝুলে থাকার দৃশ্য দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমসহ মনবাধিকার কর্মীদের মাঝে সমালোচনার ঝর তোলে। পরে ২০১৩ সালের ১৩ আগষ্ট ভারতের কোচবিহারের বিএসএফ’র বিশেষ আদালতে ফেলানী হত্যার বিচার কাজ শুরু হয়। একই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমীয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেয় বিএসএফ’র বিশেষ আদালত। বিজিবির আপত্তিতে ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পুন: বিচার শুরু হলেও সেখানে খালাস দেয়া হয় অভিযুক্ত অমীয় ঘোষকে। এরপর ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই ভারতীয় মানবাধিকার সুরক্ষা ম  (মাসুম) এর মাধ্যমে ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করেন। পিটিশনের ভিত্তিতে কয়েক দফায় শুনানীর দিন পিছালেও এখনও আদালতেই ঝুলে আছে পিটিশনটি। এ অবস্থায় অনেকটা হতাশার মধ্যে থাকলেও মেয়েকে হত্যাকারীর সবোর্চ্চ শাস্তিসহ ন্যায় বিচারের আশা করছেন তার পরিবার।

ফেলানীর বাবা মো: নুর ইসলাম জানান, মেয়ে ফেলানীকে বিয়ে দিতে সাথে করে সীমান্ত পাড়ি দেয়ার সময় আমার চোখের সামনে বিএসএফ সদস্য অমীয় ঘোষ আমার মেয়েকে হত্যা করেছে। আমি অমীয় ঘোষের ফাঁসি চাই। দু’দেশের সরকার যেন সঠিক বিচারটা করে। 

ফেলানীর মা জাহানারা বেগম জানান, আমার মেয়েকে যখন হত্যা করা হয় তখন আমি ভারতে ছিলাম। আমার বোনের ছেলের সাথে বিয়ে দেয়ার জন্য ফেলানীর বাবা ফেলানীকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশে আসার সময় আমার মেয়েকে বিএসএফ হত্যা করেছে। ফেলানী আমার বড় মেয়ে। আমার বুকটা খালি করে দিয়েছে। আমার মেয়ে হত্যার বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমার আত্মা শান্তি পাবে না।

নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলনিটারী গ্রামের ফেলানীর পরিবারের প্রতিবেশিরা জানান, ফেলানী হত্যার বিচার পেতে আদালতে স্বাক্ষী দিতে কয়েক দফায় ভারতে যান ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিচার না পাওয়াটা দু:খ জনক। ফেলানী হত্যার বিচারের পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবি তাদের।

কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর ও ফেলানীর বাবার আইনি সহায়তাকারী এডভোকেট আব্রাহাম লিংকন জানান, করোনা পরিস্থিতির কারনে ভারতের সুপ্রিমকোটে দাখিল করা রিট পিটিশনটির শুনানী এখনও শুরু হয়নি। বিলম্ব হলেও ন্যায় বিচারের মাধ্যমে দু’দেশের বন্ধুত্বপুর্ণ সম্পর্ক ও শান্তিপুর্ণ সীমান্ত প্রতিষ্ঠা হবে বলে মনে করেন তিনি।

নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলনিটারী গ্রামের নুর ইসলাম ও জাহানারা দম্পতির ৮ সন্তানের মধ্যে সবার বড় মেয়ে ছিল ফেলানী। পরিবারের অভাব অনটন দুর করতে কাজের সন্ধানে স্বপরিবারে চলে যান ভারতে। মেয়েকে বিয়ে দিতে দাদালের মাধ্যমে দেশে ফেরার সময় এ হত্যাকান্ডের শিকার হয় ফেলানী।


আরও খবর