আদমদীঘিতে বিএনপি নেতা চঞ্চলের পূজামন্ডপে আর্থিক সহায়তা প্রদাণ আদমদীঘির আড়াইল সিদ্দিক হোসেন এতিমখানার নতুন ভবনের জায়গা নির্ধারণ উপলক্ষে দোয়া উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে - প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ২৭ অক্টোবর আদমদীঘির কুন্দগ্রাম ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবুর পূজামন্ডপ পরিদর্শন ও অর্থ সহায়তা কুলিয়ারচরে ফ্রিজ কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ফাইনাল অনুষ্ঠিত চৌদ্দগ্রামে ভরসার নাম: এ.এম.এম. নিয়াজ মাখদুম রাজশাহীতে আখচাষিদের প্রণোদনার অর্থ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে আখচাষিদের প্রণোদনার অর্থ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী মাদককাণ্ডে জড়িতরা যেকোনো রাজনৈতিক দলেরই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না : এমপি বাবু আক্কেলপুরে তিন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, শুভেচ্ছা ও সহায়তা দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী কেনেডি বিশ্ববাজারে রুপার দাম স্থিতিশীল থাকলেও কমেছে প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়াম কিশোরগঞ্জ ভেটেরিনারি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে বায়েজিদ মিয়া ও মো. নাজমুল হাসান কালিগঞ্জে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী ডা. শফিকুল ইসলাম বাবু মোংলায় প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে ঝকঝকে সড়ক, বিস্মিত স্থানীয়রা ‎ জমি নিয়ে বিরোধ: চৌদ্দগ্রামে বাড়িতে হামলা-লুটপাটের অভিযোগ আল-হিদায়াহ একাডেমিতে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ প্রদান ৪ দিনের সফরে ২৬ অক্টোবর জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর এক ক্লিকে আখচাষিরা পেল ১২ কোটি টাকা হাতিয়ায় শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে তরুণ গ্রেপ্তার

লাখাইয়ে বিলুপ্তির পথে শালুক।

লাখাইয়ে বিলুপ্তির পথে শালুক। লাখাইয়ে আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগেও খাল-বিল, ঝিলে ও অনেক বড় দিঘীগুলোর বুকজুড়ে শাপলা ফুলের দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্য ছিল চোখে পড়ার মতো। শাপলা গাছের গোড়ায় একাধিক গুটির জন্ম হয় যা ধীরে ধীরে বড় হয়ে শালুকে পরিণত হয়। একেকটি শালুকের ওজন সাধারণত ৫০ থেকে ৭০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। এটি সিদ্ধ করে বা আগুনে পুড়িয়ে ভাতের বিকল্প হিসেবে খাওয়া যায়। এক সময় গ্রামের হত দরিদ্র মানুষের ক্ষুধা মেটানোর খাবার ছিল শালুক। বর্ষা মৌসুমে শালুক সিদ্ধ খেয়েই জীবন বাঁচাতেন তারা। তবে ধনীরা সেই সময় শালুক সিদ্ধ খেতেন শখ করে। আর লাখাই থেকে এ শালুক যেন অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। সচরাচর শালুক আগের মতো এখন আর দেখা যায় না। হাটে-বাজারে যা পাওয়া যায় তার দামও আকাশ ছোঁয়া। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লাখাইয়ের বিভিন্ন স্থানে কয়েক যুগ আগেও বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ব্যাপকভাবে শাপলা জন্মাতো। বর্ষা থেকে শরতের শেষ পর্যন্ত নদী-নালা, খাল-বিল, জলাশয়ের নিচু জমিতে জন্মায় শাপলা। যার গোড়া থেকে শালুক সংগ্রহ করা হয়। এ মৌসুমে উপজেলার বেশ কয়েকটি হাট-বাজারে চড়া দামে শালুক বিক্রি করতে দেখা গেছে। ফলে উপজেলার একাধিক কৃষক বাড়তি আয় করার সুযোগ পেয়েছেন। শনিবার (২৭শে সেপ্টেম্বর )লাখাইয়ের বুল্লাবাজারে শালুক বিক্রি করতে দেখা যায়। তবে চাহিদার তুলনায় পরিমাণে কম। দাম খুব চড়া। প্রতি কেজি শালুক বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা দরে। শালুক বিক্রেতা তৈয়ব আলী বলেন, খালে-বিলে পানি নেই। শাপলা-শালুক পাওয়া যায় না। আশপাশের কয়টি বিল কুড়িয়ে ছয় থেকে সাত কেজি শালুক পেয়েছি। মানুষের বাড়তি ঝামেলা এড়াতে বাড়ি থেকে সিদ্ধ করে বিক্রি করতে এনেছি। মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে সাত কেজি শালুক বিক্রি শেষ হয়ে গেছে। কৃষকরা জানান, শালুক উৎপাদনে কোনো খরচ নেই। মূলত বর্ষা মৌসুমে প্রাকৃতিকভাবেই খাল-বিল, নিচু জমি ও জলাশয় অবহেলা-অযত্নে বেড়ে ওঠে শালুকের গাছ শাপলা। বর্ষা মৌসুম শেষের দিকে সেসব শাপলা গাছের গোড়ায় একাধিক গুটির জন্ম হয়। সেখান থেকে ধীরে ধীরে বড় হলে উৎপাদন হয় শালুক। শুধু কষ্ট করে পানির নিচ থেকে সেই শালুকগুলো সংগ্রহ করতে পারলেই তা বিক্রি করা যায় চড়া দামে। বুল্লাবাজারে খুচরা শালুক বিক্রি করতে আসা কৃষক কালাম হোসেন ও হারুন মিয়া বলেন, প্রায় তিনদিন ধরে বিভিন্ন জলাশয় থেকে শালুক তুলে এনে বাড়িতে সংগ্রহ করে রাখি। পরে সংগ্রহ করা সেই শালুক গরম পানিতে সিদ্ধ করে বিভিন্ন হাট-বাজারে নিয়ে যাই। শুধু গ্রামের হাট-বাজারের নয়, বেশি শালুক তুলতে পারলে সেগুলো সিদ্ধ করে বস্তায় ভরে হবিগনজ শহরে নিয়ে বিক্রি করি। গ্রামের চেয়ে শহরে আরও বেশি দামে বিক্রি করা যায়। গ্রামের হাট-বাজারে প্রতি কেজি শালুক ১০০ থেকে ১২০ টাকা দামে বিক্রি করছি। আর শহরে নিতে পারলে ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি করে থাকি। এতে আমাদের প্রতিবছর বাড়তি আয় হয়। তবে দিন দিন যেন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে শালুক। শালুক কিনতে আসা শাহিনা আক্তার ও শামসুন্নাহার বলেন, মুরব্বিদের কাছে শাপলা-শালুকের গল্প শুনেছি। আমাদের প্রজন্ম এখনও নাম বললে বা দেখলে চেনে। কিন্তু আমাদের ছেলে-মেয়েরা শালুক কি জিনিস তা চেনা তো দুরে থাক নামই শোনেনি। তাই ১৫০ টাকা করে দুই কেজি কিনেছি বাচ্চাদের খাওয়ানো ও চেনানোর জন্য। স্বাস্থ্যবিদদের মতে শালুক হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে, দ্রুত ক্ষুধা নিবারণও করে থাকে। এটা শরীরে পর্যাপ্ত শক্তি জোগায়। এটি একটি ভালো সবজি। পাশাপাশি চুলকানি ও রক্ত আমাশয় নিরাময়ের জন্য ঔষধ হিসেবেও কাজ করে। কৃষিবিদের মতে, জলবায়ু ব্যাপক পরিবর্তনে আগের মতো সঠিক সময়ে বন্যা হয় না। এছাড়া আবাদি জমিতে অনেক বেশি কীটনাশক ও রাসায়নিক সার প্রয়োগের ফলে অনেক শাপলা বীজ বা মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা মা-শালুক বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে নতুন করে শাপলার গাছ জন্মায় না। ফলে দিনে দিনে শালুক বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
Tag
আরও খবর