সাতক্ষীরায় দেড় কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে অপহরণ, মারধর ও অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ পুলিশের তিন কর্মকর্তা এবং এক সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও তার ছেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বুধবার সাতক্ষীরার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাস মণ্ডলের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন দেবহাটা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আল ফেরদৌস আলফা।
মামলা নং—সিআর ১৭৪২/২৫; ধারা—৪৪৮/৩৬৪/৩২৩/৩০৭সহ অন্যান্য। আদালত মামলাটি তদন্ত করে আগামী ২০ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন সিআইডিকে।
বাদী আল ফেরদৌস আলফা সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোলে বসবাস করছেন।
১. মীর্জা সালাহউদ্দিন – সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সাতক্ষীরা সদর সার্কেল।
২. মোস্তাফিজুর রহমান – সাবেক ওসি, সাতক্ষীরা সদর থানা।
৩. মহিদুল ইসলাম – সাবেক ওসি, ডিবি পুলিশ।
৪. আব্দুল লতিফ – সাতক্ষীরা জজকোর্টের সাবেক পিপি।
5. মোঃ রাসেল – পিপির ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর দুপুরে বিজিবি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁকাল চেকপোস্ট থেকে বাদীর দেড় কোটি টাকার ভারতীয় সামুদ্রিক মাছ জব্দ করে। বৈধ কাগজপত্র দেওয়ার পরও বিজিবি মাছ থানায় পাঠায়। এরপর তৎকালীন ওসি মোস্তাফিজুর রহমান ফোনে বাদীর কাছে দেড় কোটি টাকা দাবি করেন এবং হুমকি দিতে থাকেন।
সেদিন রাত ১১টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর্জা সালাহউদ্দিন ও ডিবির ওসি মহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা দুটি মাইক্রোবাসে এসে বাদীর পলাশপোলের বাড়ি ঘিরে ফেলে। বাড়ির বিভিন্ন তলা তল্লাশি শেষে পিস্তল ঠেকিয়ে এক কোটি টাকা দাবি করা হয়। আলফা বাধ্য হয়ে ১৫ লাখ টাকা দেন, যার কিছু অংশ দুই ওসির কাছে সরাসরি দেন সালাহউদ্দিন। পরবর্তীতে তাকে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয় ‘গুম’ করার উদ্দেশ্যে।
বাদী অভিযোগ করেন, তার চোখ–হাত বেঁধে গোয়েন্দা পুলিশের ‘আয়নাঘর’-এ ঝুলিয়ে ভয়াবহ নির্যাতন করা হয়। মাছ আনার অভিযোগে নিয়মিত মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বারবার এক কোটি টাকা দিতে চাপ দেওয়া হয়।
৩০ ডিসেম্বর রাতেও তাকে মাইক্রোবাসে করে নির্জন স্থানে নেওয়া হয়। ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আজ তোর জীবনের শেষ দিন। এক কোটি টাকা না দিলে বাঁচবি না।” রাতভর রাস্তায় ঘোরানোর পর ৩১ ডিসেম্বর ভোরে পুলিশ অফিসে এনে আবারো হাত–পা–চোখ বেঁধে নির্যাতন করা হয়। কয়েকবার তিনি জ্ঞান হারান বলেও অভিযোগে উল্লেখ আছে।
৩১ ডিসেম্বর সকালে আলফা এবং তার ভাই আলীমকে থানায় এনে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করলেও পরে জেলা জজ রিমান্ড বাতিল করেন। দুই ভাই ১৯ দিন কারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
মামলার মাছ দেড় কোটি টাকার হলেও পুলিশ মাত্র ১ লাখ ৯৫ হাজার ৯২৫ টাকায় নিলাম দেখায়। পরে আদালতের নির্দেশে আলফা সেই টাকা ফেরত পান এবং মামলা খারিজ হয়।
বাদী অভিযোগ করেন, জামিন করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেখিয়ে সাবেক পিপি আব্দুল লতিফ ও তার ছেলে রাসেল তার কাছ থেকে ৩৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেন।
অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘ নির্যাতনের কারণে তার দৃষ্টিশক্তি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতির কথাও উল্লেখ করে ন্যায়বিচারের আবেদন জানান তিনি। সময়ের অনুকূল পরিবেশ না থাকায় মামলা করতে দেরি হয়েছে বলেও তিনি বলেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খায়রুল বদিউজ্জামান জানান, মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল। আদালত সিআইডিকে নিয়মিত তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দিয়েছেন।
৩ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ৩৫ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ৩ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে