দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, সহিংসতা কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে নিজ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মাহবুবের রহমান শামীম।
বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতার হামলায় আহত ইমাম রবিউল হোসেনকে দেখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে চলছে ব্যাপক আলোচনা। অনেকে এ সিদ্ধান্তের জন্য তাঁকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, “আমি আহত মসজিদের ইমামকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছি এবং তার পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছি। ইতোমধ্যে স্বেচ্ছাসেবক দলের রুবেলকে পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ওসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিএনপি সন্ত্রাস পছন্দ করে না। যারা শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করবে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি আইন নিজের হাতে তুলে নেয়, চাঁদাবাজি, দখল বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়ায়, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে তাদের বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শামীম বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো কাজ বরদাস্ত করা হবে না। নেতাকর্মীদের জনগণের আস্থা অর্জনের রাজনীতি করতে হবে, ভয়ভীতি বা প্রভাব খাটিয়ে নয়। দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হবে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাত ১০টার দিকে চরকিং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরবগুলা গ্রামের হাজী রগবত আলী জামে মসজিদে তারাবির নামাজ শেষে ইমাম রবিউল হোসেনকে মসজিদ থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে মারধর করার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, রবিউল হোসেন সংসদ নির্বাচনে ‘শাপলা’ প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থক ছিলেন এবং তার বিজয়ের জন্য দুই খতম কোরআন মানত করেছিলেন। বিষয়টি ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। অভিযোগ রয়েছে, তারা কয়েকবার তাকে মারধরের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।
ঘটনার দিন ইমাম রবিউল হোসেন যথারীতি তারাবির নামাজে ইমামতি করেন। নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে একদল দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। এ সময় তিনি মোটরসাইকেল ফেলে দৌড়ে পুনরায় মসজিদে আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা ইমামের কক্ষের দরজা ভেঙে তাকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে এনে বেদম মারধর করে। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।