দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমী আজ মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় বরখাস্ত ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি জাকারিয়া ঝিনাইগাতীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চন্দনাইশে চোলাই মদসহ মৌসুমী হিজড়া গ্রেপ্তারে স্বস্তিতে এলাকাবাসী শারদীয় দুর্গোৎসবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি দাশ দিনাজপুরে প্রধান মন্ত্রীর পক্ষ থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা উপহার প্রদান চট্টগ্রাম উত্তরে প্রদীপ সামগ্রীর সেরা বিক্রেতা বারইয়ারহাটের মেসার্স ছালেহ ইলেকট্রিক ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: রাষ্ট্রপতি রাজনীতি-আমলাতান্ত্রিক দুষ্টচক্রের হাতে রাষ্ট্রসংস্কার জিম্মি: টিআইবি ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার: দুর্গাপূজার শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী আল-আমিন হোসেনের লেখা কবিতা "মেঘকন্যা" নাগেশ্বরীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানালেন বিএনপি নেতা সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী আজিজুল হক অভয়নগরে পুড়াখালী তা'লিমুল কুরআন মাদ্রাসায় কুরআনের পাখিদের সবক অনুষ্ঠিত সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার প্রতিবাদে চন্দনাইশে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ গলাচিপায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে দৈনিক কালবেলার ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন লাখাইয়ে ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত রোমান মিয়া গ্রেফতার। মোটরসাইকেলের সামনেও বসাতে হবে নম্বরপ্লেট, সময়সীমা ১৫ নভেম্বর সর্বদা পাশে থেকে সহোযোগিতার আশ্বাস এমপি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের শ্যামনগরে উপজেলা অভিযোজন পরিকল্পনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত। লোহাগাড়ায় ব্যবসায়ী অপহরণ, স্বামীকে ফেরত চান স্ত্রী

‎সুন্দরবনে বনদস্যু ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র তাণ্ডব: ট্রলারসহ ৫ জেলে অপহৃত

ছবি সংগৃহীত


‎

‎বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জে হানা দিয়েছে বনদস্যু বাহিনী, জিম্মি করা হয়েছে ৫ জেলেকে।

‎

‎গত ২২ আগস্ট শনিবার রাত আটটার দিকে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের শ্যালার চর ও নারকেলবাড়িয়া এলাকায় সশস্ত্র বনদস্যু বাহিনী বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী ভয়াবহ এক হামলা চালায়। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রাণ বাঁচাতে উপকূলের এসব চরে আশ্রয় নেওয়া জেলেদের ওপর অতর্কিত এই হামলা চালানো হয়। দস্যুরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে শরণখোলা উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর ও উত্তর রাজাপুর গ্রামের পাঁচজন জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহৃতদের মধ্যে জাহাঙ্গীর হাওলাদার, শিহাব হাওলাদার, সাব্বির হাওলাদার, রিপন হাওলাদার এবং জাকির হাওলাদার রয়েছেন। দস্যুরা কেবল জেলেদেরই অপহৃত করেনি, বরং তাদের ব্যবহৃত একটি ফিশিং ট্রলারও ছিনতাই করে নিয়ে গেছে, যা উপকূলীয় মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

‎

‎অপহৃত জেলেদের মহাজন বাবুল মাঝি জানিয়েছেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সমুদ্র উত্তাল থাকায় জেলেরা বাধ্য হয়ে সুন্দরবনের নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে শ্যালার চরের দিকে অগ্রসর হয়েছিলেন। কিন্তু দস্যুরা আগে থেকেই সেখানে ওঁত পেতে ছিল। মহাজনের ভাষ্যমতে, দস্যুরা কোনো প্রকার পূর্ব সংকেত ছাড়াই হামলা চালিয়ে তিনটি পৃথক ট্রলার থেকে পাঁচজন জেলেকে তুলে নিয়ে যায়। অপহরণের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও দস্যু বাহিনীর পক্ষ থেকে মুক্তিপণ বা অন্য কোনো বিষয়ে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি, যা অপহৃত জেলেদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। সুন্দরবনের দুর্গম গহীনে তাদের কোথায় আটকে রাখা হয়েছে তা অজানা থাকায় স্থানীয় জেলে সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।

‎

‎ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের শ্যালার চর টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান। তিনি জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দস্যুরা এই পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে। এ বিষয়ে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং অপহৃতদের দ্রুত উদ্ধারের জন্য কোস্ট গার্ডের সাহায্য চাওয়া হয়েছে। স্থানীয় বন বিভাগের পক্ষ থেকে টহল জোরদার করার আশ্বাস দেওয়া হলেও, দস্যু বাহিনীর এমন দুঃসাহসিক তৎপরতা প্রশাসনিক নজরদারির সীমাবদ্ধতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। জেলেদের দাবি, সুন্দরবনের অভ্যন্তরে বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য বন্ধে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো জরুরি।

‎

‎সুন্দরবনের প্রাণকেন্দ্র থেকে জেলে অপহৃত হওয়ার এই ঘটনাটি উপকূলীয় মৎস্য আহরণ খাতের জন্য একটি অশনিসংকেত। একদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে বনদস্যুদের এই ক্রমবর্ধমান সহিংসতা জেলেদের পেশাগত নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে অপহৃতদের উদ্ধার করা না যায় এবং বনদস্যু বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তবে সুন্দরবন সংলগ্ন হাজার হাজার জেলের জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। বনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে এখন কঠোর অবস্থানে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই, অন্যথায় বনদস্যুরা পুনরায় সুন্দরবনের আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হবে।

‎

আরও খবর