সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৯ নম্বর ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লুৎফরের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়নের শ্মশান এলাকায় অবস্থিত তার নিজস্ব ঘেরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচার একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, ইউপি সদস্য লুৎফর নিজ প্রভাব কাজে লাগিয়ে ওই এলাকায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখছেন। তার ঘের এলাকায় বিভিন্ন সময় মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতাদের আনাগোনা দেখা যায় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পান বিক্রেতা আবেদ আলীর ছেলে মো. হাফিজুল এবং বাঁচা খোকার ছেলে আব্দুল হাই মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত। স্থানীয়দের দাবি, তারা কথিতভাবে ইউপি সদস্য লুৎফরের সঙ্গে সমন্বয় করে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগেরও কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকদ্রব্যের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে যুবসমাজের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা। মাদক কেনাবেচার কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে তারা জানান।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ইউপি সদস্য লুৎফর এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকেই ভয় পান। ফলে মাদক ব্যবসার অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকেই অভিযোগ জানাতে আগ্রহী হন না বলে দাবি তাদের।
এলাকাবাসীর অভিযোগে আরও উঠে এসেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে লুৎফর এলাকায় রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ছিলেন। ওই সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও হয়রানির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তিনি এলাকায় একটি মাদকচক্র গড়ে তুলেছেন। তবে এসব রাজনৈতিক অভিযোগের পক্ষেও প্রতিবেদকের কাছে কোনো স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত নথি পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসাজশ কিংবা প্রভাবের কারণে মাদক ব্যবসার অভিযোগ থেকে কেউ ছাড় পেয়ে যাচ্ছে কি না—সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা মনে করছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
এলাকাবাসী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে এলে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বাড়বে।
তবে ইউপি সদস্য লুৎফর, মো. হাফিজুল ও আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।
১ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৫৪ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৩ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
১ দিন ৩ ঘন্টা ৪২ মিনিট আগে
১ দিন ৩ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে