গোয়ালন্দে মিডিয়া অ্যাডভোকেসি, গোলটেবিল সংলাপ ও সেমিনার অনুষ্ঠিত
গোয়ালন্দে মিডিয়া অ্যাডভোকেসি, গোলটেবিল সংলাপ ও সেমিনার অনুষ্ঠিত
তথ্য ও গণমাধ্যমের কার্যকর ভূমিকা জোরদার, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অ্যাডভোকেসি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে মিডিয়া অ্যাডভোকেসি, গোলটেবিল সংলাপ ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক বৈষম্য নিরসন এবং নারী ও শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর ১২ টায় শাপলা মহিলা সংস্থার আয়োজনে প্রজন্ম সোপান প্রকল্পের দৌলতদিয়া শাখা কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শাপলা মহিলা সংস্থার উপনির্বাহী পরিচালক শ্যামল প্রকাশ অধিকারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সালমা বেগম এবং উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের প্রশাসক মো. নিজাম উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শাপলা মহিলা সংস্থার প্রজন্ম সোপান প্রকল্পের মনিটরিং অফিসার বিধান রায়, দৌলতদিয়া কার্যালয়ের প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টিং অফিসার মো. খোরশেদ আলমসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা।
সভায় মিডিয়া অ্যাডভোকেসির প্রয়োজনীয়তা, সঠিক তথ্যের প্রচার, সামাজিক সমস্যা তুলে ধরতে গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং জনসচেতনতা তৈরির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, যেকোনো জনকল্যাণমূলক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন জনমত গঠন, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তারা আরও বলেন, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সমস্যা, বঞ্চনা এবং অধিকারসংক্রান্ত বিষয়গুলো যথাযথভাবে গণমাধ্যমে তুলে ধরা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সংবেদনশীলতা, পেশাগত দায়িত্বশীলতা ও তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা জরুরি। সুনির্দিষ্ট অ্যাডভোকেসি কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
আলোচনায় গোয়ালন্দের যৌনপল্লিতে বসবাসকারী নারী ও শিশুদের অধিকার, নিরাপত্তা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে। বক্তারা বলেন, এ ধরনের জনগোষ্ঠীর সদস্যরা অনেক সময় সামাজিক বৈষম্য, সহিংসতা, শোষণ, মানবপাচারের ঝুঁকি এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য মৌলিক সেবা গ্রহণে নানা বাধার মুখোমুখি হতে পারেন। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠা, শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং সহিংসতা ও শোষণ থেকে সুরক্ষার জন্য পরিবার, কমিউনিটি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সামাজিক সংগঠন ও সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, এসব বিষয়ে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়তা করতে পারে। তবে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী ও ঝুঁকিতে থাকা নারী-শিশুর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে। পরিচয় প্রকাশের কারণে কেউ যেন নতুন করে হয়রানি, বৈষম্য বা ক্ষতির শিকার না হন, সে বিষয়েও সাংবাদিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় সামাজিক সমস্যা সমাধানে গণমাধ্যম, প্রশাসন ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে জনসচেতনতা সৃষ্টি, নারী ও শিশুর অধিকার রক্ষা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিদ্যমান সেবাগুলো সহজলভ্য করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের গোলটেবিল সংলাপ ও সেমিনার গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াবে। এর মাধ্যমে সামাজিক সমস্যা চিহ্নিত করা, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নীতিনির্ধারকদের নজরে আনা এবং একটি বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও সচেতন সমাজ গঠনের পথ আরও সুগম হবে।