নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রীকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরি, বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কাজী জহিরুল ইসলাম পাবেল নামে এক ব্যক্তি সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে নিজ বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাদী কাজী জহিরুল ইসলাম পাবেল, তাঁর চাচা আনোয়ার হোসেন, মা জাহানারা বেগম ও ভগ্নিপতি অভিযোগের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। এ সময় তাঁরা পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
লিখিত অভিযোগে কাজী জহিরুল ইসলাম পাবেল উল্লেখ করেন, তিনি সেনবাগ উপজেলার ৯ নম্বর নবীপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর সামাজিকভাবে শ্রীপদি এলাকার এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়েতে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং বিয়ের অনুষ্ঠানে তাঁদের পরিবারের প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ হয়।
অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের আগের দিন পার্লারে সাজানো এবং বিয়ের দুই দিন পরের একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বাদীর ভগ্নিপতির সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কথাকাটাকাটি হয়। এসব বিষয় নিয়ে পরবর্তী সময়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয় বলে দাবি করেন বাদী।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে চট্টগ্রামে বেড়াতে গেলে তাঁরা দুজনই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে বাড়িতে ফিরে আসার পর ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর তাঁর শ্বশুর ও শাশুড়ি তাঁদের বাড়িতে এসে স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ওই সময় বাদীর বাবা-মা তাঁদের সুস্থ হওয়ার পর ১১ অক্টোবর স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠানোর আশ্বাস দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, ২০৬৬ সালের ৯ অক্টোবর বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বাদীর শ্বশুরের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁদের বাড়িতে আসেন। এ সময় তাঁদের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বসতঘরে প্রবেশ করে স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি করেন বাদী।
একই সময় বসতঘরের একটি কক্ষে থাকা বিয়েতে উপহার পাওয়া প্রায় তিন ভরি স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ছয় লাখ টাকা, বিদেশ থেকে আনা নগদ পাঁচ লাখ টাকা এবং মূল্যবান কাপড়চোপড় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার বিষয়ে বাদীর ভগ্নিপতি অভিযুক্তদের এলাকার লোকজনকে অবহিত করায় তাঁরা আরও ক্ষিপ্ত হন। এর জের ধরে একই দিন রাত আটটার দিকে অভিযুক্তরা অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে সঙ্গে নিয়ে লোহার রড, স্টিলের পাইপ, হকিস্টিকসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাদীর বসতবাড়িতে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, এ সময় বসতঘরের দরজা, জানালা, টিনের বেড়া এবং ঘরের ভেতরে থাকা টেবিল, চেয়ার, সোফা, আলমারি, ওয়ারড্রপ ও শোকেসসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ৯০ হাজার থেকে এক লাখ ২৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বসতঘরের একটি কক্ষে থাকা আলমারির ড্রয়ার ভেঙে মেরামতের জন্য রাখা নগদ এক লাখ টাকা এবং তাঁর মায়ের ব্যবহৃত প্রায় এক ভরি স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য দুই লাখ টাকা, নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন বাদী।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজনের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসতে থাকলে অভিযুক্তরা অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। এ সময় বাড়ির চারপাশের টিনের বেড়াও ভাঙচুর করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে কাজী জহিরুল ইসলাম পাবেল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, ঘটনার পরও তাঁদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তাঁর মা, বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে তাঁরা জানান।
তাঁরা আরও বলেন, ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করার পর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বাদীর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আশপাশের প্রতিবেশীও উপস্থিত ছিলেন।
৫ ঘন্টা ৫২ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ৩৫ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ৪৮ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ৬ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ৭ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে