বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার  জিউধরা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বাদশার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া  গেছে।  ইউনিয়নের একাধিক ইউপি সদস্য জেলা প্রশাসক সহ বিভিন্ন দপ্তরে তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ জানা  গেছে, চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বাদশা পরিষদের সদস্যদের কোন কাজে সম্পৃক্ত না করে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছামাফিক বিভিন্ন কার্যক্রম করে থাকেন। তিনি ইউপি সদস্যদের সাথে অশালীন ব্যবহার করেন। ট্যাক্সের টাকা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা,ভিজিডি,  ভিজিএফ সহ বিভিন্ন ভাতার নামে সুবিধাভোগীদের কাজ থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ ও সরকরি বরাদ্দের মালমাল কম দিয়ে তা  আত্মসাৎ  করে বলে ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।  অর্থ ছাড়া পানির ট্যাংক বরাদ্দ  করা হয়না। তাদের সস্মানী ভাতাও অনিয়মিত।

এছাড়াও  একই জায়গায় কোন  বাজেট  কমিটির  মিটিং  ও সিদ্ধান্ত ছাড়াই কাবিখা, কাবিটা,  টিআর ও এলজিএসপি'র বরাদ্দ দেখিয়ে অধিকাংশ অর্থ  আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। রয়েছেহোল্ডিং প্লেট দেয়ার নামে মৎস্যজীবীদের কার্ডের বিপরীতে অর্থ  ও পরিষদের আওতাধীন জমি, পুকুর ও অস্থায়ী পরিষদ ভবন ভাড়ার অর্ঘ আত্মসাতের অভিযোগ ।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার (৮ মে)বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম তারেক সুলতান সরেজমিনে তদন্ত করেন।  এসময় পরিষদে সংরক্ষিত ১হাজার ৪০ বস্তা চালের মধ্যে ৮৫ বস্তা চাল পরিমাপ করেন। এসব বস্তার মধ্যে ষ্ট্যান্ডার্ড বস্তা অর্থাৎ বস্তাসহ  ৩০ কেজি ৩শ' গ্রাম ওজনের বস্তা পাওয়া গেছে ২০ টি, ভালো বস্তা  কিন্তু ওজনে কম ২১ টি বস্তা, ৪৪ টি বস্তা ওজনে কম ও ছিদ্র পাওয়া গেছে । এছাড়াও স্থানীয় সুবিধাভোগী, সাবেক চেয়ারম্যান, মেম্বারদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে এবং আরও তদন্ত করা হবে বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার  এসএম তারেক সুলতান  জানান।

    ইউপি  চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বাদশা বলেন, গোডাউন থেকে যেভাবে আমাদের দেয়া হয় সেভাবেই আমরা সরবরাহ করে থাকি। যদি কোন অনিয়ম  হয় তা গোডাউন থেকে হয়। আর গোডাউনের অনিয়মের ব্যাপারে বহুবার অবহিত করা হয়েছে।  কোন অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ ভিত্তিহীন।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024