বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জামাইল হাটের জায়গা দখল করে স্থানীয় এক প্রভাবশালী টিনের শেড তৈরীর কাজ শুরু করেছেন। সেইসঙ্গে দোকান পজিশন বানিয়ে নিজেই বরাদ্দ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়া দখলে নেওয়া হাটের জায়গায় বসা ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে নিয়মিত টোলও আদায় করে চলেছেন তিনি। এ অবস্থায় সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এহেন কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকতে একাধিকবার সর্তক করা হয় তাকে। এরপরও থেমে যাননি। বরং আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। হাটের সরকারি জায়গা দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাই ইতিমধ্যে বিষয়টি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান, হাটের ইজারাদার ও স্থানীয় এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের অর্ন্তভুক্ত জামাইল হাট। প্রায় তিন যুগের বেশি সময় ধরে সপ্তাহে প্রতি শুক্রবার ও মঙ্গলবার ওই হাটটি বসে। কিন্তু আব্দুর রাজ্জাক নামে স্থানীয় এক প্রভাবশালী হাটের অন্তত দশ থেকে পনের শতক জায়গা দখলে নিয়েছেন। সেইসঙ্গে হাটের জায়গায় ইট ও টিন দিয়ে শেড তৈরী শুরু করেছেন। এমনকি ওই শেডে দোকান পজিশন আকারে নিজেই বরাদ্দ দিচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের নিকট লাখ লাখ টাকা নিয়ে এই দোকান বরাদ্দ দিচ্ছেন তিনি। হাটের সরকারি জায়গা দখলে নিয়ে পজিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রভাবশালী ওই ব্যক্তির পকেট ভরলেও কানাকড়িও জমা হচ্ছে না সরকারি কোষাগারে। এছাড়া অবৈধভাবে হাটের জায়গা দখল হয়ে যাওয়ায় হাটটি তার জৌলুশ হারাতে বসেছে। ফলে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এতে করে ক্রেতা সাধারণের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

ওই এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম, আব্বাস আলীসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, জামাইল হাটে আগে দূরদূরান্ত থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা আসতেন। কিন্তু দিনদিন হাটের জায়গা বেদখল হয়ে যাচ্ছে। হাটের জায়গা কমে যাওয়ায় হাটের ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। কারণ হাটে ব্যবসায়ীরা কম আসছেন। তাই দোকানপাটও বসছে কম। চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পণ্য না পাওয়ায় ক্রেতা সাধারণও আসছেন না হাটে। ফলে দিনদিন নিরুৎসাহিত হচ্ছেন তাঁরা। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে আবার হাটের জায়গা দখলে নিয়ে শেড তৈরী করছেন প্রভাবশালী আব্দুর রাজ্জাক। এভাবে হাটের জায়গা দখল অব্যাহত থাকলে এক সময় হয়তো হাটটিই আর থাকবে না বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।
হাটের ইজারাদারের ব্যবস্থাপক মিয়া বলেন, অবৈধ দখলদার আব্দুর রাজ্জাক ইতিপূর্বেও হাটের জায়গা দখল করে নিয়েছেন। এখন আবার নতুন করে জায়গা দখলে নিয়ে প্রায় ২০০ ফুট লম্বা ইট ও টিনের শেড নির্মাণ শুরু করেছেন। এমনকি অবৈধভাবে হাটের এসব জায়গা দখল করে নিয়মিত টোলও আদায় করে চলেছেন। তার এই অবৈধ কর্মকান্ড বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জানতে চাইলে অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেন, ওই হাটের জায়গা নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। হাটের জায়গা নিজেদের মালিকানা দাবি করছেন স্থানীয় একটি মহল। তবে এসব বিভ্রান্ত ছড়িয়ে কোনো লাভ হবে না। তাই হাটের জায়গায় অবৈধভাবে ঘর নির্মাণের খবর পেয়েই সেখানে গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছি। এছাড়া দ্রততম সময়ের মধ্যেই উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে হাটটি দখল মুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ময়নুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, দীর্ঘদিন কোনো জায়গায় হাট-বাজার বসলে সেটি সরকারি হাটের সম্পত্তি হয়ে যায়। এজন্য হাট বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইনও রয়েছে। তাই হাটের ভেতরে জায়গা দখলে নিয়ে দোকান ঘর তৈরী ও পজিশন বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি জানার পরপরই সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তাকে সরেজমিন পরিদর্শন করে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিবেদন দিতে বলেছি। সে অনুযায়ী পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে দাবি করেন এই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
এদিকে বক্তব্য জানতে চাইলে অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাক নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, তিনি হাটের কোনো জায়গা দখল করেননি। কারণ এখানে হাটের কোনো জায়গাই নেই। আমার বাবা স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ৬৮ শতক ও মাদ্রাসাকে ৮৫ শতক জায়গা দান করেছিলেন। এরমধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গাতেই দীর্ঘদিন ধরে হাট বসছে। তাই হাটের কোনো নিজস্ব জায়গা নেই। আমার ফুফুর কাছ থেকে কিনে নেওয়া জায়গায় আমি ঘর নির্মাণ করছি। এখানে আমারতো কোনো দোষ দেখছি না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024