|
Date: 2022-09-04 02:04:48 |
◾আবদুল আযীয কাসেমি
খাওয়া-দাওয়া মানুষের বেঁচে থাকার অপরিহার্য উপাদান। সজীব-সতেজ জীবন ধরে রাখতে হলে পানাহারের কোনো বিকল্প নেই। মহানবী (সা.) পানাহারের আদবগুলো অত্যন্ত বিশদভাবে উম্মতের সামনে বলে গেছেন। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আদব এখানে তুলে ধরছি:
▪️এক. খাওয়ার সময় দুই হাঁটু উঠিয়ে খাবারের দিকে ঝুঁকে খাওয়া উত্তম। এতে আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি সকৃতজ্ঞ মুখাপেক্ষিতা ফুটে ওঠে। সাহাবি হজরত আনাস বিন মালিক (রা.) বলেন, ‘নবীজি আমাকে একটি কাজে পাঠালেন। ফিরে এসে দেখি, তিনি দুই হাঁটু উঠিয়ে খেজুর খাচ্ছেন।’ (মুসনাদে আহমদ)
▪️দুই. খাবার ঠান্ডা করে খাওয়া সুন্নত। হজরত আসমা বিনতে আবু বকর সম্পর্কে বর্ণিত আছে, যখন তাঁর কাছে অতি সুস্বাদু খাবার ‘সারিদ’ আনা হতো, তখন তিনি তা ধোঁয়ামুক্ত হয়ে ঠান্ডা না হওয়া পর্যন্ত ঢেকে রাখতে বলতেন। তিনি বলতেন, ‘আমি নবীজিকে বলতে শুনেছি, এটা অধিকতর বরকতের কারণ।’ (সুনানে দারেমি)
▪️তিন. খাওয়ার আগে বিসমিল্লাহ বলা, এক প্লেটে খেতে বসলে নিজের পাশ থেকে খাওয়া এবং ডান হাতে খাওয়া সুন্নত। সাহাবি ওমর ইবনে আবু সালামা বলেন, ‘আমি তখনো ছোট। নবীজির ঘরেই আমার বসবাস। তাঁর সঙ্গে আমি খেতে বসতাম। আমার হাত প্লেটের বিভিন্ন স্থানে ঘুরত। মানে একবার এখান থেকে, আরেকবার ওখান থেকে নিয়ে খেতাম। একদিন নবীজি বড় আদুরে ভাষায় আমাকে বললেন, “শোনো বৎস, খাওয়ার আগে বিসমিল্লাহ পড়বে। ডান হাত দিয়ে খাবে এবং নিজের পাশ থেকে খাবে।” তখন থেকে আমার খাওয়ার পদ্ধতি এমনই।’ (সহিহ বুখারি)
▪️চার. খাওয়া শেষে আঙুল ও প্লেটের অবশিষ্টাংশ চেটে খাওয়া সুন্নত। মহানবী (সা.) বলেন, ‘যখন তোমাদের কেউ খাওয়া শেষ করে, তখন সে যেন আঙুল চেটে খাওয়ার আগে হাত না মোছে।’ (সহিহ বুখারি) অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, নবীজি আঙুল ও পাত্র চেটে খেতে আদেশ দিয়েছেন। এরপর বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই তোমরা এর কোনটিতে বরকত আছে, জানো না।’ (সহিহ মুসলিম)
▪️পাঁচ. খাওয়া শেষে কুলি করা সুন্নত। সুওয়াইদ ইবনে নোমান বলেন, ‘এক সফরে আমি নবীজির সঙ্গে ছিলাম। সন্ধ্যার সময় আমরা পানির সঙ্গে ছাতু মিশিয়ে খেলাম। এরপর কুলি করে মাগরিবের নামাজ পড়লাম।’ (সহিহ বুখারি)
© Deshchitro 2024