|
Date: 2023-05-24 17:21:45 |
বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক উদ্ভিদবিজ্ঞানী ড. মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, পৃথিবীতে এ গাছ এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। নাগলিঙ্গম এক প্রকার বিশাল বৃক্ষ, যার ফুলের নাম নাগলিঙ্গম ফুল। এর ইংরেজি নাম ‘ক্যানন বল’। নাগলিঙ্গমের আদি নিবাস মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার বনাঞ্চল। এই গাছে ফুল ধরার পর বেলের মতো গোল গোল ফল ধরে। এগুলো দেখতে কামানের গোলার মতো। বিরল প্রজাতির ফুলটির সৌরভে রয়েছে গোলাপ আর পদ্মের সংমিশ্রণ। নাগলিঙ্গম গাছ ৩৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। গুচ্ছ পাতাগুলো খুব লম্বা, সাধারণভাবে ৮ থেকে ৩১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। বছরের পওায় সব ঋতুতেই এই গাছের পাতা ঝরে এবং কয়েক দিনের মধ্যে আবার নতুন পাতা গজায়। দ্রæত বর্ধনশীল নাগলিঙ্গমগাছে চারা রোপণের ১২-১৪ বছর পর গাছে ফুল ধরে। গাছের কাÐভেদ করে বেরিয়ে আসে প্রায় ৭ ইঞ্চি দীর্ঘ অসংখ্য মঞ্জুরি। এক একটি মঞ্জুরিতে ১০-২০টি ফুল ক্রমান্বয়ে ফুটতে থাকে। মঞ্জুরির একদিকে নতুন ফুল ফোটে, অন্যদিকে পুরাতন ফুল ঝরে পড়ে। ফুলের রঙ অনেকটা লালচে কমলা বা লালচে গোলাপি হয়ে থাকে। ফুলে ৬টি মাংসল পপুরু পাপড়ি থাকে। ফুলের মাঝে থাকে নাগের ফনা আকৃতির পরাগচক্র। ধারণা করা হয়, এর কারণেই এই ফুলের নাম হয়েছে নাগলিঙ্গম।
প্রতিবেশ-প্রাণবৈচিত্র সংরক্ষণ বিষয়ক গবেষক ও লেখক পাভেল পার্থ বলেণ, ‘নাগলিঙ্গম সুউচ্চ চিরসবুজ বৃক্ষ। প্রায় তিন হাজার বছর পূর্বে আমাজানের জঙ্গলে নাগলিঙ্গম গাছের সন্ধান পাওয়া যায়। এ গাছটি বাংলাদেশে বিপন্নপ্রায়। দেশের প্রাকৃতিক বনে বিশেষ করে সিলেট ও চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক বনাঞ্চলে খুব কম সংখ্যক এ গাছটি দেখা যায়। তবে ঢাকাস্থ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বলদা গার্ডেন, বোটানিক্যাল গার্ডেন ঢাকার এরকম জায়গায় প্রাকৃতিক উদ্যানে নাগলিঙ্গম কিছু গাছ রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের ময়মনসিংহসহ কিছু প্রাচীন জমিদার বাড়িতে অন্যান্য পুরাতন বাড়িতে এ গাছটি দেখা যায়। এ গাছটি ভেষজ। নাগলিঙ্গম গাছ বেড়ে ওঠার জন্য যে পরিবেশ দরকার আমাদের দেশের অধিকাংশ প্রাকৃতিক বনে সে পরিবেশ এখন আর নেই। দেশের প্রাকৃতিক বনে সুউচ্চ গাছপালা নেই বললেই চলে। আর পাশাপাশি সুউচ্চ গাছপালা না থাকলে নাগলিঙ্গম গাছ বেড়ে ওঠতে বা টিকে থাকতে পারে না।
© Deshchitro 2024