◾ডা. ম. মঈনুল হাফিজ 


বধিরতা ও শ্রবণ সমস্যা একটি সামাজিক ব্যাধি। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে শ্রবণ সমস্যায় ভুগছে এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করার কারণে সমস্যা জটিল হচ্ছে। তাই কানের শ্রবণ সমস্যায় শুরুতেই যত্ন নেওয়া জরুরি।


◾শ্রবণ সমস্যার কারণ 


▪️জন্মগত ত্রুটির কারণে শ্রবণ সমস্যা দেখা দিতে পারে।

▪️বংশ ও জিনগত কারণ।

▪️প্রসবকালীন জটিলতা।

▪️মায়ের গর্ভকালীন কিছু সংক্রমণ।

▪️শিশুর মেনিনজাইটিস বা মস্তিষ্কে কনফেশন এবং ভাইরাসজনিত রোগ, যেমন মাম্পস, মিসেলস ইত্যাদি।

▪️উচ্চশব্দ। হেডসেট বা হেডফোনের বেশি ভলিউম, উচ্চশব্দের কনসার্ট, আতশবাজির শব্দ, রাস্তায় গাড়ির হর্ন, কলকারখানার শব্দ ও বজ্রপাতের শব্দ।

▪️কানের ক্ষতিকর ওষুধের ব্যবহার বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ড্রপ ব্যবহার।

▪️কানে আঘাত ও দুর্ঘটনা।

▪️দীর্ঘদিনের কানের প্রদাহ বা সংক্রমণ।

▪️শিশু-কিশোরদের দীর্ঘদিনের টনসিলে সংক্রমণ।

▪️দীর্ঘদিন কানে ময়লা জমে থাকা।

▪️বয়সজনিত কারণ।

▪️ধূমপান, রক্তে চর্বি জমা, পুষ্টিহীনতা ও হঠাৎ খারাপ ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ।



◾ প্রতিরোধ


▪️বংশ ও জিনগত বধিরতা দূর করতে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। জেনেটিক রোগ সম্পর্কে ধারণা থাকলে, বিশেষ করে কনসেনগুয়াল ম্যারেজ তথা রক্ত সম্পর্কিত বিয়ে বাদ দিয়ে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

▪️জন্মগত ত্রুটি দূর করতে নিরাপদ গর্ভধারণ ও প্রসব নিশ্চিত করা।

▪️জন্ম-পরবর্তী নবজাতকের সঠিক যত্ন ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা।

▪️জন্মের পরপরই কানের শ্রবণশক্তি পরীক্ষা করা এবং সেটি স্বাভাবিক স্ক্রিনিং প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসা। দ্রুত রোগ নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া।


◾চিকিৎসা


▪️সুস্থ-স্বাভাবিক শ্রবণক্ষমতাসম্পন্ন শিশু পেতে মা ও শিশুর টিকা নিশ্চিত করতে হবে।

▪️শিশু বয়সে কোনো ভাইরাসজনিত রোগ, বিশেষ করে জ্বর হলে দ্রুত সঠিক চিকিৎসা নেওয়া এবং কানে শোনার সমস্যা আছে কি না, খেয়াল রাখা।

▪️বাচ্চাদের টনসিলে সংক্রমণ ও এডিনয়েড বা নাকের পেছনের টনসিলের সঠিক চিকিৎসা নেওয়া এবং প্রয়োজনে সার্জারি করান।

▪️কান থেকে পানি, পুঁজ, রক্ত পড়লে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া এবং সঠিক চিকিৎসা নেওয়া।

▪️দীর্ঘদিন ধরে কানের প্রদাহ বা পর্দায় ছিদ্র থাকলে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া।

▪️বয়সজনিত কারণে বা অন্য যেকোনো কারণে শোনার সমস্যা হলে কানের শ্রবণ পরীক্ষা-পরবর্তী রোগ নির্ণয় করে অনেক ক্ষেত্রে শ্রবণযন্ত্রের সাহায্যে কানে শোনার ক্ষমতা ফিরিয়ে আনা যায়।

▪️শব্দদূষণ এড়িয়ে চলা। 

▪️বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কানে কোনো ওষুধ, তেল বা ড্রপ ব্যবহার না করা।

▪️কানে ময়লা বা খৈল জমে কান বন্ধ হলে বা কানে কোনো কিছু ঢুকলে তা বের করতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। এ ছাড়া স্বাস্থ্য সেবাদানকারীদের শ্রবণ প্রতিরোধ ও প্রতিকারে প্রশিক্ষিত করা প্রয়োজন।

 


লেখক: ডা. ম. মঈনুল হাফিজ, নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ ও হেড-নেক সার্জন



তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024