|
Date: 2022-09-10 15:48:02 |
দক্ষিণে উপকূলীয় অঞ্চল কয়রায় দিনমজুর নারী-পুরুষের পারিশ্রমিকে রয়েছে বিস্তর বৈষম্য। বেঁচে থাকার তাগিদে নারী ও পুরুষ হাঁড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করলেও নারী তার ন্যায্য পাওনা পায় না। সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে কয়রা উপজেলার মুন্ডা ও আদিবাসী নারী শ্রমিক।
এসকল নারীদের অভিযোগ, পুরুষের পাশাপাশি খেত খামারে দৈনিক ৮ ঘন্টা কাজ করি। অথচ পুরুষ শ্রমিক ছয়'শ টাকা পারিশ্রমিক পেলেও আমরা পাই তিন'শ টাকা। কর্মক্ষেত্রে নিযার্তনসহ নানা বৈষম্যের স্বীকার হন এসকল নারী।একাধিক নারী শ্রমিকের সাথে কথা হলে তারা জানান, মাটি কাটা ছাড়া সব কাজে তাঁরা পুরুষের সঙ্গে রীতিমতো পাল্লা দিয়ে চলেন। অথচ মজুরি প্রদানের ক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় তাঁদের প্রতি বেলা একশ/দেড়শ টাকা কম দেওয়া হয়। অনেক সময় কম মজুরিতে পুরুষরা কাজ করতে সম্মত না হওয়ায় অর্ধেক মজুরিতে নারী শ্রমিকদের কাজে লাগানো হয় বলে জানান তারা।
উপজেলার মুন্ডাপাড়া নারী শ্রমিক জয়ন্তি রানী বলেন, পুরুষের সাথে মাটি কাটি, কাঁধে ও মাথায় বোঝা বহন করি। জমি চাষ, ধান রোপণ, কাটা ও মাড়াই করি। তবুও রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দিনশেষে পুরুষের চেয়ে আমাদের মজুরী নিতান্তই কম।
মুন্ডা সংগঠক নিরাপদ মন্ডল জানান, উপজেলায় দেড় হাজার মুন্ডা ও আদিবাসী নারী শ্রমিক কৃষি কাজে সাফল্যও রাখছে। কিন্তু পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে তাদের প্রতি মারাত্মক বৈষম্য করা হয়।
উপজেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেশমা খাতুন বলেন, সরকার নারীদের ক্ষমতায়ন ও উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছেন। একজন শ্রমিক হিসেবে নারীদেরকেও সমান মজুরি দেওয়া উচিৎ।
© Deshchitro 2024