◾ স্পোর্টস ডেস্ক 


প্রথম ম্যাচেই আফগানিস্তানের কাছে হেরেছিল শ্রীলঙ্কা। দলে বড় তারকা না থাকা ও টি-টোয়েন্টির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স খারাপ হওয়ায় দলটি কাছে বেশি প্রত্যাশা ছিল না ভক্তদের। ক্রিকেট বোদ্ধারাও শ্রীলঙ্কার এশিয়া কাপের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে খুব বেশি আশা করেনি।


উপরন্তু আফগানিস্তানের কাছে ধরাশায়ী হওয়ার দাসুন শানাকার দলের সুপার ফোরে খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তবে আত্মবিশ্বাস আর কমিটমেন্টে অবিচল ছিল লঙ্কানরা। এতেই বাজিমাত করে দলটি। পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৩ রানে জয় পায় শানাকারা।


এই জয় শুধু একটি জয় নয়। এই জয় ৮ বছর পর লঙ্কানদের এনে দিয়েছে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট। এবার নিয়ে মোট ছয় বারের মতো এশিয়া কাপের শিরোপা জিতল লঙ্কানরা।


১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়ানিদু হাসারাঙ্গা আর প্রামোদ মধুসানের বোলিং তোপে পাকিস্তান থেমেছে ১৪৭ রানে। এশিয়া কাপের শিরোপা গেল অর্থনীতিতে বিপর্যস্ত দেশ শ্রীলঙ্কার ঘরে।


প্রথম দিকে টানা দুই বলে দলটি হারায় দুই উইকেট। এরমধ্যে অধিনায়ক বাবর আজম সাজঘরে ফিরেছেন ৫ রান আর ফখর জামান ফিরেছেন শূন্য রানে।


পুরো সিরিজ জুড়েই ব্যটিং ব্যর্থতায় কেটেছে পাক দলপতি বাবর আজমের।


রান তাড়া করতে গিয়ে বেশ দেখেশুনে শুরু করে পাকিস্তান। প্রথম ৩ ওভারে তোলে ২০ রান। এর পরের ওভারেই আসে বিপদ। 


প্রমথ মধুশান নিজের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলে তুলে নেন বাবরকে। ফাইন লেগ বাউন্ডারি দিয়ে বল পাঠাতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে মধুশঙ্কার দুর্দান্ত ক্যাচ হন পাকিস্তান অধিনায়ক। পরের বলটি উইকেটে টেনে বোল্ড হন ফখর জামান। ২২ রানেই ২ উইকেট হারায় পাকিস্তান। 


পরে দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলার প্রাণাস্তকর চেষ্টা করে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইফতেখার আহমেদ। ২২ রান থেকে ৯৩ রান পর্যন্ত টেনে নিয়ে যান এই দুই ব্যাপার। তবে ১৪ তম ওভারের তৃতীয় বলে প্রামোদ মধুসানকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে সীমান্তে ধরা পড়েন। সাজঘরে ফেরার আগে ৩১ বলে ৩২ রানের দুর্দান্ত একটি ইনিংস খেলেন তিনি।


এরপর মোহাম্মদ নওয়াজ এসে হাল ধরার চেষ্টা করলেও তাতে ফল হয়নি। চামিকা করুনারত্নের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মধুসানের হাতে ক্যাচ হন তিনি (৯ বলে ৬)।


একপ্রাস্ত আগলে রেখে জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। তবে শ্রীলঙ্কা বোলিং একশনকে শাসন করে ৪৯ বলে ৫৫ রান করে তিনি ফেরেন সাজঘরে। তাকে ফেরান হাসারঙ্গা। আসিফ আলিকেও শূন্য রানে ফিরিয়েছেন এই বোলার।


এরপর আর দাঁড়াদে পারেনি বাবর আজমের সতীর্থরা। নিয়মিত বিরতিতে সাজঘরে ফিরেছেন তারা।


শ্রীলঙ্কার পক্ষে ওয়ানিদু হাসারাঙ্গা ৪টি, প্রামোদ মধুসান ৩টি, চামিকা করুনারত্নে ২টি উইকেট নেন। একটি উইকেট নেন মহেশ থিকসিনা।


এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৭০ রান করে শ্রীলঙ্কা। লড়াকু এই সংগ্রহ পেতে বড় ভূমিকা রেখেছে ভানুকা রাজাপাকসে। ৪৫ বল খেলে তিনি করেছেন ৭১ রান।


দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। প্রথম ওভারটি করেন নাসিম শাহ। ওভারের তৃতীয় বলেই কুশল মেন্ডিসের স্টাম্প উড়িয়ে দেন পাকিস্তানের ডানহাতি এই পেসার।


নাসিমের ১৪২ কিলোমিটার গতির বলটি যেন বুঝতেই পারেননি কুশল। ডিফেন্ড করার আগেই উড়ে যায় তার অফস্টাম্প। গোল্ডেন ডাকে ফেরেন লঙ্কান ওপেনার। দলীয় ২ রানে প্রথম উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা।


এরপর পাথুম নিশাঙ্কা আর ধনঞ্জয়া ডি সিলভা কিছুটা সময় দলকে স্বস্তি দিয়েছিলেন। কিন্তু চতুর্থ ওভারে বল হাতে নিয়েই ১৭ বলে তাদের ২১ রানের জুটি ভাঙেন হারিস রউফ।


মিডঅফে ক্যাচ তুলে দেন নিশাঙ্কা (১১ বলে ৮)। বাবর আজম দৌড়ের মধ্যেই নেন দুর্দান্ত এক ক্যাচ। এরপর দানুসকা গুনাথিলাকা ফেরেন হারিস রউফের বলে (৪ বলে ১)।


ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে প্রথম বলে ১৫১ কিলোমিটার গতির এক বলে লঙ্কান ব্যাটারের স্টাম্প উড়িয়ে দেন ডানহাতি এই পেসার।সপ্তম ওভারে চমক জাগিয়ে ইফতিখার আহমেদের হাতে বল তুলে দেন বাবর আজম। পার্টটাইমার এই অফস্পিনার প্রথম ওভারেই উইকেট এনে দেন দলকে। ধনঞ্জয়া ডি সিলভা তার ফিরতি ক্যাচ হয়ে ফেরেন ২১ বলে ২৮ রান করে।


পরের ওভারে উইকেট শিকারের উৎসবে যোগ দেন শাদাব খানও। লঙ্কান অধিনায়ক দাসুন শানাকা (৩ বলে ২) তাকে ক্রস খেলতে গিয়ে লাইন মিস করে হন বোল্ড। ৫৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে শ্রীলঙ্কা।


সেখান থেকে ভানুকা রাজাপাকসে আর ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় লঙ্কানরা। ৫৮ রান ওঠার পরই এই জুটিতে ভাঙেন হারিস রউফ। ২১ বলে ৩৬ রান করে মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। 


১৪ রান করে অপরাজিত থাকেন করুনারত্নে।


পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ টি উইকেট নেন হারিস রউফ। একটি করে উইকেট নেন নাসিম শাহ, শাহদাব খান এবং ইফতেখার আহমেদ

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024