◾উবায় আল হাসান
নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য দ্বারা প্রকৃতি মানুষের হৃদয়কে ছুয়ে যায়। নানা রঙিন আমেজে আসে প্রবাহমান বাংলার চিরচেনা ঋতু। তার মধ্য অন্যতম হলো বর্ষাকাল। ঝুম বৃষ্টিতে ভিজেও মনের একটা উষ্ণতা খুজে পায় বৃষ্টিপ্রেমী মানুষ।
আকাশটা সকাল থেকেই ধূসর; দিগন্তে ভেসে যাচ্ছে আকাশের মেঘমালা, বুড়িগঙ্গার স্রোতের মতো চঞ্চলতায় ভেসে যাচ্ছে অবিরাম। দ্রুতই চলে আসছে জগন্নাথের আকাশে। আকাশচুম্বী দালানের সাথে আটকে পড়ে মেঘমালা। অবশেষে হঠাৎ শিশিরের মতো বৃষ্টি হয়ে নামে জগন্নাথের ক্যাম্পাসে। চলমান ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ভিড়ে একটু একটু করে ঠাঁই নেয় ফোটায় ফোটায় ঝরে পড়া বৃষ্টি। কেউ দৌড়ে যায় বিবিএ বা রফিক ভবনে আবার কেউ দৌড়ে নামে বৃষ্টির সাথে গাঁ মেলাতে। এদের সংখ্যা নিখাত কম। তবে বৃষ্টিতে ভিজতে না পেরে নিজের মনের সাথে একাত্ত্বতা প্রকাশ করতে পারে না সিংহভাগ শিক্ষার্থী।সবাই ভিজতে চায় কিন্তু কেন জানি পারে না! তবে তাদের না পারার প্রাপ্তিটা হৃদয়কে ধিক্কার জানায়।
একজন, দুইজন, তিনজন এভাবে একে একে নেমে আসে কংক্রিটের ছাদ থেকে মুক্ত আকাশের নিচে। কেউ পাখির মতো ডানা ছড়ায়ি আকাশের দিকে বন্ধ চোখে তাকায়, হাতে হাত রেখে চক্রাকারে নৃত্য পরিবেশন, কেউবা আবার জমে থাকা পানির উপর আলতো করে পা ভিজায়। তরুণ-তরুণীর এমন বৃষ্টিতে ভেজা উচ্ছাস শিক্ষক, কর্মচারী, ক্যাম্পাসের সিনিয়রদের মনে তৈরী করে শৈশবের আবেগ। হয়ত কেউ আবেগের কাছে হার মেনে, নেমে পড়ে বৃষ্টির সাথে মনে জমানো শৈশবের কথাগুলো বলতে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র শহিদ মিনারে কানায় কানায় ভর্তি এসব বৃষ্টিপ্রমী আবেগময়ীদের। অবিরাম ঝরছে বৃষ্টি আর তারা নিজেদের মতো ভিজছে বসে বসে। কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইন্স ফেকাল্টি, রফিক ভবন থেকে টেনে নামাচ্ছে প্রাণপ্রিয় বন্ধুদের, শুধু বৃষ্টিতে ভিজবে বলে। সাইন্স ফেকাল্টির ছোট রাজপথটায় হাতে হাত রেখে ভিজছে অনেক প্রেমিক-প্রেমিকা। আবার একদল ফুটবল প্রেমী ছেলেরা কলা ভবনের সামনে হইচই শুরু করেছে। এ যেন শৈশবের বৃষ্টিস্নাত কোনো দুপুর।বিশ্ববিদ্যালয়ে মাঠ না থাকলেও আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে চায় না এসব আবেগময়ী শিক্ষার্থী।
সময়ের ধারা চলে যায় সময়। তবে জীবনের স্বর্ণসময়- শৈশবটাকে ফিরে পেতে চায় পৃথিবীর সকল মানুষ। বাস্তবতা তা হতে না দিলেও মনের ভেতর আবেগটাকে কখনও হার মানাতে পারে না। তাই তো কারও উন্মাদনা বা কিশোর সুলভ খামখেয়ালি আচরণে আমারাও মনের অজান্তেই মিশে মিশে কৈশোরে।
বর্ষার এই দিনগুলোতে দৈনন্দিন দেখা যায় বৃষ্টিবিলাশে উচ্ছাস প্রকাশ করছেন জবিয়ানরা। নানা অপ্রাপ্তি, সংকট, প্রত্যাশা সত্ত্বেও বৃষ্টিস্নাত ক্যাম্পাসে, সবাই ফেলে আসা কৈশোরকে প্রকাশ করেন।
" বৃষ্টিবিলাশে কাকভেজা শরীরে আবেগ প্রকাশ করেছেন নুসরাত জাহান নিশি নামের এক জবিয়ান। তিনি বলেন, বৃষ্টিতে ভেজা- ঢাকার ব্যস্ততম বিশ্রী দিনের মধ্যে একটা স্বস্তি। বৃষ্টি আমার বাধাহীন শৈশবকালকে মনে করিয়ে দেয়। আমি তখন মিশে যায় প্রকৃতিতে "
এমন শত শত জবিয়ান আত্মনিয়ম ভেঙ্গেই উচ্ছাসে ফেটে পড়েন ছোট্ট এই ক্যাম্পাসে। ব্যস্ততম শহরে হয়তো পা ফেলার জায়গা নেই,তবুও শহরের এই ছোট্ট আয়তনে প্রকৃতি প্রেমীদের আনাগোনা সত্যিই মনকে আন্দোলিত করে।
প্রকৃতির এই ঝরণাধারা ধীরে ধীরে থেমে যায়। ঠিক তখনি ভিড় জমে টিএসসি বা ক্যাফেটেরিয়ায়। ধূয়া উঠা চায়ের ক্যাটলির সামনে উষ্ণতা খুজে নিতে একপায়ের জায়গা করে নেয়। হাতে চায়ের কাপ, গলায় ভাঙা ভাঙা সুর আর কাপা কাপা শরীর। চায়ের কাপে ফু আর চুমুক দিতে দিতে শরীরে উষ্ণতা ফিরে আসে। এভাবেই শেষ হয় জবিয়ানদের বৃষ্টি বিলাশ ও চায়ের আড্ডা।