|
Date: 2023-07-16 13:22:44 |
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন - আওয়ামী লীগ বক ধার্মিক।বক যেমন পুকুুর জলশয়ের দ্বারে এক পায়ে বসে থাকে মাছ ধরার জন্য , এবং সুযোগ পেলেই ঠোকর মারে। আওয়ামী লীগ ও সেই রকম , সুযোগ পেলেই ঠোকর মারবে। এদের অধিনে আমরা আর নির্বাচনে যাব না। ন্যাড়া বেলতলায় বারবার যায় না, একবারই যায়।
রোববার (১৬ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউরী নাসিমন ভবনের সামনে শ্রমিক দল আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিকাল তিনটায় সমাবেশের ঘোষণা দেয়া হলেও নেতাকর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেন দুপুর থেকেই। বিকাল গড়াতেই মহাসমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। চট্টগ্রাম মহানগরীর নূর আহমদ সড়ক দলীয় কর্যলয়ের সামানে রাস্তার ওপর দুটি ট্রেইলর পাশাপাশি রেখে তৈরি করা হয়েছে মঞ্চ। মেহনতী শ্রমিক জনতার ভোটাধিকারসহ নাগরিক অধিকার আদায়ে এই সমাবেশ আয়োজন, বলছেন বিএনপি নেতারা।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেকমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
উক্ত সমাবেশে মির্জা ফখরুল আরো বলেন, মানুষ আজ ভোট দিতে যায় না। আপনারা ২০১৪ সালে ভোট দিয়েছেন, ২০১৮ সালে দিয়েছেন? কেউ দিতে পারেননি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এবার নির্বাচনের আগে মানুষকে বলছেন, দেখো আমরা কত ভালো হয়ে গেছি। তারা নির্বাচনের আগে একটু সহানুভূতি দেখাচ্ছেন। কিন্তু ন্যাড়া বারবার বেলতলায় যায় না। গেলে তার মাথা ফাটবে। সুতরাং আমরা এ অবস্থায় আর বেলতলায় যাব না। ওরা আমাদের বেলতলায় নিয়ে যেতে চায়।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের অধীনে নাকি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়। তারা মুখে মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে কিন্তু ভেতরে ভেতরে একদলীয় শাসন কায়েম করেছে। এ দেশের জনগণ এটি আর মানবে না। মূলত আওয়ামী লীগের চরিত্র ভালো না। তারা ভোটের আগে জনগণকে দেওয়া একটি কথাও মনে রাখে না। শুধু মনে রাখে, লুট, ডাকাতি এবং চুরি করে সব পাচার করে দেওয়া। ১৯৭৪ সালে এখনকার মতো যখন তারা লুটপাট শুরু করেছিলেন, মাওলানা ভাসানী তখন বলেছিলেন- আওয়ামী লীগের নামটাই বদলে দিতে হবে।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, আজ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলছেন, মাফিয়া হটাও। মাফিয়া তারা, যারা বন্দুকের জোরে ক্ষমতায় থাকেন আর শুধু লুটপাট করেন। আওয়ামী লীগ পরিকল্পনা করছে, কীভাবে আবার ক্ষমতায় আসা যায়। তারা প্রশাসনে রদবদল করছে। মন্ত্রীর পিএস এবং এপিএসদের ডিসি (জেলা প্রশাসক) বানাচ্ছে। তারা নির্বাচনের সময় রিটার্নিং অফিসার হবেন। এছাড়া ইউএনও বানানো হচ্ছে আওয়ামী লীগের পছন্দের লোকদের।
কর্ণফুলী টানেল প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, আপনাদের এখানে একটা টানেল হচ্ছে। কয়েকদিন পর সেদিন উদ্বোধন করা হবে। আমরাও খুব খুশি। কারণ পৃথিবীর খুব কম দেশে টানেল হয়েছে। টানেল হওয়াতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আমাদের আপত্তি অন্য জায়গায়। আজকে জনগণ ১০ টাকায় চাল খেতে পারছেন না। অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য কোনো হাসপাতাল নির্মাণ হয় না। সরকার আমাদের দেখান গত ১৫ বছরে জনগণের জন্য কয়টা হাসপাতাল নির্মাণ হয়েছে। একটাও দেখাতে পারবেন না। সাধারণ মানুষের লেখাপড়ার জন্য স্কুল-কলেজ তৈরি করেননি। এ অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। এ জন্যই আমরা রাস্তা নেমেছি।
উক্ত সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন রাখেন, দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মীর নাসির উদ্দিন, কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাসেম বক্কর, উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান, বান্দরবান বিএনপির নেতা ম্যামাচিং প্রমুখ।
© Deshchitro 2024