|
Date: 2023-07-16 16:10:38 |
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের তারাব বিশ্বরোড মোড় থেকে একটু এগোলেই ডিএনডি খাল। খালের পূর্ব পাড়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইয়াজ উদ্দিনের (৭৫) ভাঙা টিনের বাড়ি। গতকাল শনিবার রাতে ওই বাড়ির পাশে খালপাড়ে খোলা জায়গায় ওই মুক্তিযোদ্ধার লাশ গোসলের সময় আগুনে চারজন দগ্ধ হন। ওই খালপাড় ধরে তিতাস গ্যাসের পুরোনো একটি পাইপলাইন আছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ওই পাইপলাইনে অসংখ্য ছিদ্র আছে। গরমকালে সেখানে গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যেত। বর্ষায় খালপাড়ে পানি জমলে বুদ্বুদ তৈরি হতো।
তবে তিতাস কর্তৃপক্ষ বলছে, সেখানে একসময় তিতাসের আবাসিক সংযোগ ছিল। সেটি বিচ্ছিন্ন করেছে তিতাস। তিতাস গ্যাস থেকেই আগুন লেগেছে নাকি সেখানে জমে থাকা ময়লায় গ্যাস জমেছিল, সেটা এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছে না তিতাস।
গতকাল রাতের আগুনে ওই বীর মুক্তিযোদ্ধার লাশের কিছু অংশ পুড়ে যায়। আগুনে দগ্ধ চারজনকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন তারাব খালপাড় এলাকার মো. কবির হোসেন (৪০), মো. জুম্মন (৩০), সেমিন হোসেন (২২) ও মিরাজ হোসেন (১৮)।
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন তরিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, দগ্ধ চারজনের মধ্যে জুম্মনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁর শরীরের ২০ শতাংশ পুড়ে গেছে। বাকি তিনজনের মধ্যে মিরাজের ৪ শতাংশ এবং সেমিন ও কবিরের ৫ শতাংশ করে দগ্ধ হয়েছে।
লাশের গোসল দেওয়ার পর আগরবাতি দিতে দেশলাই জ্বালালে হঠাৎ আগুন ধরে যায়
বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী আফিয়া বেগম প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় ২৪ বছর আগে তাঁরা ওই এলাকায় জায়গা কিনে বাড়ি করেন। বাড়ির পেছনের খালপাড়ে একসময় ভূমিহীনরা ঘর তুলে বসবাস করতেন। তাঁদের কারও কারও ঘরে অবৈধ গ্যাস-সংযোগ ছিল। কয়েক বছর আগে ডিএনডি খাল পরিষ্কারের সময় সেই ভূমিহীনদের উচ্ছেদ করা হয়। তার পর থেকে মাঝেমধ্যে সেখানে গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যেত। তিনি বলেন, ‘আমরা গ্যাসের গন্ধ পাইতাম। কিন্তু কী করমু, কারে জানামু এগুলা কিছু বুঝি নাই। খালপাড় দিয়া কত লোক চলাচল করে, তারাও গন্ধ পাইত। কিন্তু কেউ কোনো ব্যবস্থা নেয় নাই। এমন খোলা জায়গায় আগুন লাগব, কেউ কোনো দিন চিন্তা করে নাই। এখনো গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যাইতাছে। এটা নিয়া আমরা ভয়ে আছি।’
সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গেলে নাকে গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। খালের পাড়ে লাশ ধোয়ানোর একটি খাটিয়া ও আগুনে পুড়ে যাওয়া একটি মশারি পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
তিতাস গ্যাসের সোনারগাঁর আঞ্চলিক বিপণন বিভাগের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী এরশাদ মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘সেখানে গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যায় বা গ্যাস লিকেজ হচ্ছে, এমন কোনো খবর আমাদের জানা ছিল না। সকালে আমরা দুর্ঘটনাস্থলটি ভেকু (খননযন্ত্র) দিয়ে খুঁড়ে দেখেছি। সেখানে আমাদের একটি আবাসিক সংযোগ ছিল। সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তিতাস গ্যাস থেকেই আগুন লেগেছে নাকি সেখানে জমে থাকা ময়লায় গ্যাস জমেছিল, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।’
দগ্ধ কবিরের বড় ভাই সিরাজুল ইসলাম বলেন, কবির পেশায় একজন জামদানি কারিগর। পাশাপাশি এলাকার কয়েকজনকে নিয়ে তিনি স্বেচ্ছাশ্রমে মৃত ব্যক্তিদের গোসল করান। গতকাল সন্ধ্যায় পাশের এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াজ
© Deshchitro 2024