চট্টগ্রামের আনোয়ারায় যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী মামুনুর রশীদ ওরফে মামুন ভূঁইয়াকে (৫০) গ্রেফতার করেছে র্যাব। ঘটনার ১৪ বছর পর বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার ব্রিজঘাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে আনোয়ারা থানার কৈখাইন গ্রামের আবদুল শুক্কুরের ছেলে।
র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নুরুল আবছার জানান, নিহত কলি আকতার বরগুনা জেলার তালতলী থানার নিদ্রারচর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। ২০০২ সালের জুন মাসে চট্টগ্রামে এসে পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। এরপর মামুনুর রশীদের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে উভয়ের সম্মতিকে ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্ত্রী কলি আকতারের কাছে যৌতুক দাবি করে আসছিলেন মামুন। পরে সৌদি আরব যাওয়ার জন্য কলি আকতারের পরিবার মামুনকে আড়াই লাখ টাকা দেয়। তবে তিনি সেসব টাকা খরচ করে ফেলেন।
এরমধ্যে ডাকাতির এক মামলায় গ্রেফতার হয়ে প্রায় ২০ মাস হাজতবাস করেন মামুন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে কর্মহীন অবস্থায় আরো ৫০ হাজার টাকার জন্য ভিকটিম এবং তার পরিবারকে চাপ দেয়। ৫০ হাজার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে স্বামী মামুনুর রশীদ এবং তার পরিবারের সদস্যরা ভিকটিমকে মারধর ও নির্যাতন শুরু করে।
এসবের ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালের ২৬ মে কলি আকতারকে হত্যা করে দ্রুত মরদেহ দাফন করে ফেলা হয়। কলির মৃত্যুর ব্যাপারে মামুনুরকে
জিজ্ঞাসা করলে কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। এ ব্যাপারে ভিকটিমের পরিবার আশেপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারে যৌতুকের টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ভিকটিম কলি আক্তারকে হত্যা করে এবং হত্যার আলামত গোপন করার জন্য তাড়াহুড়া করে কাউকে না জানিয়ে দাফন করে ফেলে। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানায় মামুনুরসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করলে আসামিদের গ্রেপ্তার করতে গোয়েন্দা নজরধারি অব্যাহত রাখে র্যাব। এর ধারাবাহিকতায় তাকে গতকাল গ্রেপ্তার করে তাকে থানায় সোপর্দ করা হয় বলে জানিয়েছে র্যাব।