◾মাওলানা ইসমাইল নাজিম 


বান্দার দায়িত্ব আল্লাহর কাছে চাওয়া। তাঁর দান অফুরান। তিনি সবাইকেই দেন। তাঁর আনুগত্য করলেও দেন, না করলেও দেন। তবে মুমিন বান্দা জীবনের সবকিছু আল্লাহর জন্য সঁপে দেন। তাঁর কাছেই করুণা ভিক্ষা করেন, তাঁর দরবারে মাথানত করেন। জীবনের বিভিন্ন উদ্দেশ্য পূরণের জন্য তাঁর কাছে আকুতি-মিনতি করেন। এই মোনাজাত ও আকুতি কবুল হওয়ার জন্য কিছু আদব ও শিষ্টাচারের কথা হাদিসে বিবৃত হয়েছে। যথা—


▪️এক

হালাল উপার্জন করা। খাবারদাবার থেকে শুরু করে পোশাক-পরিচ্ছদ—সবকিছু বৈধ উপার্জনের মাধ্যমে অর্জন করা। মহানবী (সা.) বলেন, ‘কীভাবে দোয়া কবুল হবে—অথচ তার পানাহারের উপকরণ হারাম, গায়ের কাপড় হারাম এবং তার ভোগ করা খাবার হারাম?’ (মুসলিম: ১০১৫)


▪️দুই

করুণভাবে অনুনয়-বিনয় করে আল্লাহর কাছে চাওয়া। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, নবী (সা.) যখন দোয়া করতেন, তখন এক দোয়া তিনবার বলতেন। যখন কিছু চাইতেন, তখন তিনবার চাইতেন।


▪️তিন

দুই হাত তুলে দোয়া করা। মহানবী (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা অতি মহানুভব ও লজ্জাশীল। বান্দা যখন দুই হাত তুলে তাঁর কাছে প্রার্থনা করে, তখন তাকে নিরাশ করে শূন্য হাতে ফিরিয়ে দিতে তিনি লজ্জা পান।’ (তিরমিজি)


▪️চার

অহংকার ত্যাগ করে দোয়া করা। পোশাক-পরিচ্ছদ ও চালচলনে অহংকারী ভাব আল্লাহর পছন্দ নয়। মহানবী (সা.) বলেন, ‘উষ্কখুষ্ক ও এলোমেলো চুলের অনেক আল্লাহর বান্দাকে মানুষের দরজা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অথচ সে যখন আল্লাহর শপথ করে কোনো কথা বলে, তখন আল্লাহ তা পূরণ করেন।’ (মুসলিম) 


লেখক: ইসলামবিষয়ক গবেষক

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024