রাতভর টানা বৃষ্টিতে ফের তলিয়ে গেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন নিম্ন  এলাকা। এতে করে কর্মজীবি  সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চরম  ভোগান্তিতে পড়েছে  ২৭ আগষ্ঠ থেকে ( রোববার)  শুরু হওয়া  এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে  যানচলাচলে বিঘ্ন ঘটায় অনেক পরিক্ষার্থী  যথাসময়ে  কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেনি। যার ফলে চট্টগ্রাম মহানগরী ও হাটহাজারীর ২৯টি কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা এক ঘন্টা দেরিতে শুরু  করেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কতৃপক্ষ।

শনিবার মধ্যরাত থেকে কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি আবার কখনো এক   টানা  বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে নগরীর অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকাগুলো।
রোববার সকালে নগরীর  যায়, আগ্রাবাদ,  হালিশহর, ফিরিঙ্গী বাজার,  মুরাদপুর, দুই নম্বর গেইট, জিইসি, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, , বক্সিরবিট, বাকলিয়া, চান্দগাঁও,  বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে গেছে হাঁটু থেকে কোমর পানিতে।

এদিকে বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রামসহ তিন শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পেছানো হয়েছিল ,  সে পরীক্ষাগুলো  রোববার থেকে  শুরু হয়েছে  । তাতেও যেন ভোগান্তি পিছু ছাড়ছে না পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের। জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বড় ভোগান্তিতে পড়েছে তারাই।

নগরীর বন্দর কলেজের শিক্ষার্থী মো. সাইফুল ইসলাম বলে, ‘আমার বাসা হালিশহর বি ব্লক  এলাকায়। পুরো পথে পানি, অনেকক্ষণ ধরে দাড়িয়ে আছি ,  কোন গাড়ি পাচ্ছি না। আগ্রাবাদ সিডিএ মহিলা কলেজে  পরীক্ষা কেন্দ্র।জলাবদ্ধতার কারণে কোন গাড়ি যেতে চাচ্ছে না। 


এদিকে চট্টগ্রামে শনিবার দিনভর থেমে থেমে গুঁড়ি বৃষ্টি হলেও মধ্যরাত থেকে বৃষ্টির পরিমাণ বেড়ে যায়। রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত নগরে ১৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আমবাগান আবহাওয়া অফিস।

আমবাগান আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক মফিজুর রহমান বলেন, ‘এটা বর্ষার স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত। রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।’


জলাবদ্ধতা চট্টগ্রামের অন্যতম বড় সমস্যা। গত কয়েক দশক ধরেই জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে চলছে নগরবাসী। জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার চারটি বড় সরকারি প্রকল্প চলছে বছরের পর বছর। এ চার প্রকল্পের প্রতিটিরই সময় ও ব্যয় বাড়লেও সুফল  পাচ্ছে না  নগরবাসী ।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024