আশাশুনিতে বাড়িতে ও পথিমধ্যে হামলা চালিয়ে হত্যার চেষ্টা,
নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেছে। আক্রমনে ৩ মহিলাসহ ৪
জন আহত হয়েছে। এব্যাপারে ১৬ জনকে আসামী করে থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করা
হয়েছে।
উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের হাজরাখালী গ্রামের
মৃত আলহাজ্ব বাবুরালী সানার ছেলে আলতাফ হোসেন বাদী হয়ে দাখিলকৃত এজাহার
সূত্রে জানাগেছে, প্রতিবেশী ইয়াছিন আরাফাত পরাগের সাথে জমিজমা সংক্রান্ত
বিরোধ নিয়ে দীর্ঘদিন ক্ষয়ক্ষতি ও জীবন নাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই জের ধরে
গত ২১ সেপ্টেম্বর হত্যাসহএকাধিক মামলার আসামী শ্রীউলা গ্রামের মৃত কাশেম
সরদারের ছেলে আঃ হামিদ, মৃত রুহুল আমিনের ছেলে মুকুল, মৃত বাবু সরদারের
ছেলে আলা উদ্দিন লাকী এবং ইয়াছিন, ইকতি, রাসেলসহ ১৬ ব্যক্তি বাদীর বাড়িতে
অনাধিকার প্রবেশ করে তাদের খোঁজাখুজি ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।
পুরুষ লোকজন বাড়িতে না থাকায় বাদীর স্ত্রী ইলমা খাতুন, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী
কাবিরা খাতুন ও বৃদ্ধ মা রিজিয়া খাতুন মৌখিক প্রতিবাদ করলে বাঁশের লাঠি ও
লোহার রড দিয়ে মারপিট, পরনের কাপড় ছিড়ে বেআব্রু ও শ্লীলতাহানি ঘটায়। বসত
বাড়ি ভাংচুর ও ৮৪ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। পাশের
লোকজন ডাকচিতকারে এগিয়ে গেলে জীবন নাশের হুমকি দিয়ে হামলাকারীরা চলে যায়।
পরদিন বাদী আশাশুনিতে কাজে গিয়ে সাংবাদিক ফয়জুল কবিরের মটর সাইকেলে বাড়িতে
ফরার পথে বিকাল পৌণে ছয়টার দিকে মহিষকুড় মৎস্য সেটের কাছে পৌছলে আসামী
হামিদ, মুকুল ও লাকি মোটর সাইকেল আড় করে দিয়ে তাদের পথ রোধ করে জামার কলার
ধরে গাড়ি থেকে টেনে হিছড়ে নামিয়ে জুতাপিটা এবং গলায় গামছা পেচিয়ে শ্বাসরোধ
করে হত্যার চেষ্টা করে। পকেট থেকে ২০ হাজার টাকা কেড়ে নেয়। স্বাক্ষীরা
এগিয়ে গেলে তাকে ও তার পরিবারের যাকে ফাঁকা পাবে মাখার খুলি উড়িয়ে লাশ গুম
করে দেবে বলে হুমকি দিয়ে চলে যায়। বাদী ও এলাকাবাসী জানান, আসামীরা খুবই
বেপরোয়া, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দুর্ধর্ষ প্রকৃতির। তাদের কাছে এলাকার
অধিকাংশ মানুষ জিম্মী হয়ে আছে। তাদের বিরুদ্ধে এলাকার মানুষ মুখ খুলতে সাহস
পায়না। এব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা ও এলাকাবাসীকে
জিম্মীদশা থেকে মুক্তির জোর দাবী জানান হয়েছে।