যমুনা বিধত সিরাজগঞ্জ জেলা আর নদীর বড় বড় মাছের জন্য অনেকটাই খ্যাতি রয়েছে এই জেলাটির। প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার আগেই যমুনার বিভিন্ন চর ও মাঝ নদী থেকে পারে আসতে শুরু করে জেলেদের মাছের নৌকা। আর ভোরের আলো ফুটতেই ক্রেতাদের হাক ডাকে শুরু হয় মাছের নিলাম। যমুনা নদীর পারে নিদিষ্ট কোনো মৎস্য আড়ত না থাকায় সিরাজগঞ্জের মতি সাহেবের বাঁশ ঘাট এলাকায় রাস্তার পাশেই ২৫ বছর ধরে বসে মাছের এই বাজার।এখানে নদীর বোয়াল, চিতল, আইড়, চিংড়ি, ট্যাংরা, গুলশা, গোচই, বাইলা, পুঁটিসহ নানা রকমের ছোট মাছ নিয়ে ভোর থেকেই হাঁক-ডাক মুখরিত হয়ে ওঠে মাছের এই বাজার। এছাড়াও আশপাশের বেশ কিছু জায়গায় খন্ড খন্ড ভাবে বসে এই মাছের বাজার। ঢাকা সহ সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে মাছ কিনতে ভিড় করে খুচরা ক্রেতা পাইকাররা সহ হোটেল ব্যবসায়ী,ও সাধারণ মানুষ, এছাড়াও চাকরিজীবীরাও মাছ কিনতে আসেন এই বাজারে। তবে মাছের দাম একটু বেশি হলেও বিভিন্ন ধরনের তাজা ও টাটকা মাছ নিজ চোখে দেখে কিনতে আসেন দূর-দূরান্ত থেকে অনেক ক্রেতারা। এই বেচা বিক্রি চলে ভোর সাড়ে ৭টা থেকে সকাল সাড়ে ৮ টা,পর্যন্ত। বর্ষার মৌসুমে এই বাজারে বিভিন্ন ধরনের প্রায় ৭ থেকে ৮ মণ মাছ বিক্রি করা হয়। প্রতিদিন গড়ে বিভিন্ন প্রকারভেদে প্রায় ২ থেকে আড়াই লক্ষ টাকার মাছ বিক্রি হয় এই বাজারে। মাছ বিক্রেতারা বলেন,নিলাম শেষে পাইকাররা এই মাছ নিয়ে চলে যায় শহরের বিভিন্ন বাজারে। একেক দিন একেক রকম মাছের বাজার যায়, নদীর বিভিন্ন প্রকারের বারো মিশালি মাছ বিক্রি হয় ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি পর্যন্ত। আর নদীর বড় কোন আইড় মাছ বা বোয়াল মাছ হলে প্রতি কেজিতে বিক্রি হয় ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত।

তবে মাছ ব্যবসায়ী নেতারা বলছে, বর্ষার সময় মাছের দেখা বেশি মিললেও অন্যান্য সময় খুব একটা মাছ মেলে না এই বাজারে। যদি সরকারিভাবে জেলেদের প্রনোদনা সহ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে এ সকল বাজারে মাছের আমদানি আরো বাড়বে।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024