জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ সানন্দবাড়ীতে অসময়ে ব্রহ্মপুত্র নদে আবার তীব্র  ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে , গত কয়েকদিনের টানা বর্ষন আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদী ভাঙ্গন  দেখা দিয়েছে । এতে প্রায়  শতাধিক একর জমি নদী গর্ভে চলে গেছে ,কয়েকটি গ্রাম বিলিন হবার পথে । কিছুদিন আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিল কিন্ত এবারের ভাঙ্গনে জিও ব্যাগ আর কাজে আসছেনা ভাঙ্গনের সাথে জিও ব্যাগ ভেসে যাচ্ছে । প্রতিরোধে স্থায়ী কোন পদক্ষেপের উদ্যোগ দেখতে না পেয়ে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ ।  

চর আমখাওয়া ইউনিয়নের ২  নং ওয়ার্ডের পাটাধোয়া পাড়া, ৫ নং ওয়ার্ডের   পশ্চিমপাড়ায় দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে শত শত একর ফসলি জমি ঘর বাড়ী নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে  কয়েকদিনে  ৬০ থেকে ৮০ টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে । এছাড়া  খোলাবাড়ী টুপকার চর বিলিন হবার পথে । 

পাটাধোয়া পাড়া এলাকার আবু বকর,  আবু সাঈদ মন্ডল, আবুল কাশেম সহ  স্থানীয়  কয়েকজন জানান, বাড়ী ঘর জমিজমা, সব নদীতে চলে গেছে, চরে অস্থায়ী ভাবে আশ্রয় নিয়েছি, কোথাও যাবার যায়গা নেই, সরকার যেন আমাদের সহায়তা করে ঘর তুলে দেয়, তাদের দাবী স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ । কিছুদিন পূর্বে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙ্গন প্রতিরোধে ১৬০ মিটার এলাকায় ১৩ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হলেও এবারের সেসব জিও ব্যাগ ভাঙ্গনের শ্রুতে ধসে যাচ্ছে । ইতিমধ্যে ২০ মিটার যায়গার জিও ব্যাগ নদীতে চলে গেছে ।

চর আমখাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জিয়াউল ইসলাম কালের কন্ঠকে বলেন, কিছুদিন আগে পাউবির পক্ষ থেকে ১৬০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হয় , তার ভেতর  ২০ মিটার এলাকার জিও ব্যাগ নদী গর্ভে চলে গেছে, স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তিনি ।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার( ইউ এন ও )  কামরুন্নাহার শেফা জানান, এ ব্যাপারে  প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে । পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রফিকুল ইসলামের বক্তব্য নিতে মুঠোফোনে কয়েকবার কল দিলে ফোন রিসিভ না হওয়ায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারি  প্রকৌশলী মোঃ শফিকুল ইসলাল  ফোনে জানান, আমাদের নির্বাহী প্রকৌশলী স্যার গত সপ্তাহে সেখানে ভিজিট করেছেন এবং স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রনালয়ে পাঠানো আছে আমরা আশাকরি সমস্যা সমাধান হবে।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024