সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি


সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের চাতলবিল ও খাসিয়াখালী সরকার কর্তৃক লিজ পাওয়া জলমহালে মৎস্য আহরণ ও সংরক্ষণে বাধা প্রদান ও প্রাননাশের হুমকির প্রতিবাদে মৎস্যজীবি সম্প্রদায়ের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


বুধবার দুপুরে চাঁনপুর চাতলপাড় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির আয়োজনে ইউনিয়নের চাতলবিল-খাসিয়াখালী বিলেরপাড়ে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শতাধিক মৎস্যজিিব সম্প্রদায়ের লোকজন অংশগ্রহন করেন।


এ সময় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন চাঁনপুর চাতলপাড় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি কালা মিয়া, সহ-সভাপতি আব্দুর রশীদ, সাবেক সভাপতি আঙ্গুর মিয়া, সমিতির সদস্য আব্দুল কাইয়ূম, আব্দুল গফুর,  জামাল মিয়া প্রমূখ। বক্তারা বলেন, এক লিজে চাতলবিল ও খাসিয়াখালী এই দুটি বিল গত প্রায় ৫০ বছর ধরে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে এই মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি ইজারা এনে মৎস্য আহরণ ও সংরক্ষন করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। 


এই বিলের আওতায় পানির নিচে থাকা ব্যক্তি মালিকানা প্রায় দেড় একর জায়গার দখল  নিয়ে চলে আসছে দ্বন্ধ। এই দ্বন্ধের হিংসা-হানাহানিতে অযথা যুক্ত করা হয়েছে গ্রামের বাসিন্দা পুলিশ কর্মকর্তার ভাই ক্রীড়াবিদ আবু তাহের ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাইকে জড়িয়ে নানান ধরনের অপপ্রচার ও থানায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ রঙ্গারচর গ্রামের নুর উদ্দিন, সাবেক ইউপি সদস্য তাজুদ আলী, তারাই মিয়া, আজর আলী, সাদক আলী, রফিক মিয়া, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মাসুম আহমদ গংদের বিরুদ্ধে । মামলায় চাঁনপুর চাতলপাড় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির একাধিক সদস্যকে আসামী করে সদর মডেল থানা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে এবং মোবাইল ফোনেপ্রকাশ্যে দিবালোকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে রফিক মিয়ার বিরুদ্ধে গাঁজা ব্যবসা, আজর আলী মদের ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা আবু তাহের কোনো জটঝামেলায় যুক্ত না থাকার পরও ঐ কুৃচক্রীমহলটি তাকে নিয়ে নানান অপপ্রচারের পাশাপাশি তাকে মামলায় আসামী করার চেষ্টা ও করা হয়েছিল। 


এই চক্রের মাধ্যমে ইতোমধ্যে একটি অনলাইনে মনগড়া সংবাদ প্রচার করে সমাজে সম্মানহানি ঘটিয়েছে। তারা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপারের নিকট দাবি জানান। 


এ বিষয়ে গ্রামের খেলোয়ার আব্দুল কাদির ও পিয়াল আহমদ জানান, আবু তাহের এই গ্রামের অসহায় মানুষের সেবক। তিনি প্রায় ২০ বছর যাবত খেলাধূলা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তিনি খেলাধূলায় এখন কোচের দায়িত্ব পালন করছেন। গ্রাম্য প্রতিহিংসায় তাকে সদর মডেল থানায় দায়ের করা ৭ ধারা মামলার প্রধান আসামী দেয়া হয়েছে। তীব্র নিন্দা জানান তারা। 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ব্যক্তি তারাই মিয়ার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মামলা বা জলমহাল বিষয়ে কথা বলতে নারাজ। 


এ ব্যাপারে রঙ্গারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল হাই বলেন, দেশ স্বাধীনের পর থেকে চাতলবিল ও খাসিয়াখালী এই দুটি বিল চাঁনপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি সরকার থেকে লীজ নিয়ে মৎস্য আহরন ও সংরক্ষণ কওে আসছেন। এই ধারাবাহিকতায় এবারও এই সমিতি লীজ নিয়েছে। কিন্তু নামাংঙ্কিত ব্যাক্তিদ্বয় অযথা মাছ আরোহণ ও সংরক্ষণে বাধা প্রদান ও হুমকি দামকী দিয়ে আসছে বলে এমন অভিযোগ মৎস্যজীবিদের । ##




সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

 ২৫.১০.২০২৩

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024