◾মুফতি খালিদ কাসেমি


মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) প্রত্যেক মুসলিমের জন্য উত্তম আদর্শ। আকিদা, ইবাদত, লেনদেন, শিষ্টাচার, সমাজ, রাষ্ট্রসহ জীবনের প্রতিটি অঙ্গনে রয়েছে নবীজি (সা.)-এর অনুসরণযোগ্য কর্মপন্থা। তাঁর অনুসরণই সুন্নাহর অনুসরণ। সুন্নাহ অর্থ পদ্ধতি ও জীবনব্যবস্থা। ইসলামের পরিভাষায় সুন্নাহ হলো মহানবী (সা.)-এর সেই পদ্ধতি, যা তিনি ইচ্ছাকৃত গ্রহণ করেছেন। (মুফরাদাতুল কোরআন) 


মহানবী (সা.)-এর অনুসরণ ছাড়া প্রকৃত মুমিন হওয়া যায় না। তিনি নিজেই এরশাদ করেন, ‘তোমাদের কেউ ততক্ষণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তার প্রবৃত্তি আমার আনীত দীন ও শরিয়তের অধীন হবে।’ (মিশকাত) 


মহানবী (সা.)-এর সুন্নতের অনুসরণে ইহকালীন ও পরকালীন সফলতা ও সৌভাগ্য লাভ হয়। বান্দা আল্লাহর কাছে প্রিয় হয়ে ওঠে। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হচ্ছে, ‘বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবেসে থাকো, তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা আলে ইমরান: ৩১) 


মহানবী (সা.)-এর আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্য অর্জিত হয়। আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি রাসুলের আনুগত্য করে, সে আল্লাহরই আনুগত্য করে। আর যে মুখ ফিরিয়ে নেয়, আমি আপনাকে তাদের তত্ত্বাবধায়ক বানিয়ে পাঠাইনি।’ (সুরা নিসা: ৮০)


সুন্নাহর অনুসরণকারী ব্যক্তি জান্নাতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গ লাভ করবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর একান্ত খাদেম আনাস (রা.)-কে লক্ষ্য করে বলেন, ‘হে বৎস, তুমি যদি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্তরে কারও প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ না রেখে কাটাতে পারো, তাহলে তা-ই করো।’ এরপর তিনি বলেন, ‘হে বৎস, এটি আমার সুন্নত। যে ব্যক্তি আমার সুন্নত ভালোবাসে, সে আমাকেই ভালোবাসে। আর যে আমাকে ভালোবাসে, সে আমার সঙ্গে জান্নাতে থাকবে’ (মিশকাত) 


লেখক: শিক্ষক ও ইসলামবিষয়ক গবেষক


প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024