|
Date: 2023-11-21 15:10:08 |
বইন্নার (ঝড়ের) দিন সাড়ে ১১টার কালেও (সময়) বাবার লগে ফোনে কথা অইছে। আমারে কয় মা ঝড়-বৃষ্টির বাতাসের কারণে কথা বুঝি না। জাল টানতে আছি। শেষ হইলেই তোমারে ফোন করমু। বাবায় আমার আর ফোন করে নাই। এহন যতই ফোনে কল দেই শুধু বন্ধ কয়। ও বাবা তুই মায়রে ফোন করোস না ক্যা?’
নিখোঁজ ছেলের কথা বলে এভাবেই বিলাপ করে স্বজনদের সঙ্গে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন মা নাজমা বেগম। তার ছেলের নাম জিসান প্যাদা (১৯)। পাশের গ্রামের হাসান জোমাদ্দারের মালিকানাধীন ট্রলারের মাল্লা হিসাবে সাগরে মাছ শিকারে গিয়েছিলেন। ঘূর্ণিঝড় মিধিলির পরে ওই ট্রলারটি নিখোঁজ হয়। এরপর আর কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। ফলে সময় যতই যাচ্ছে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে।
ঘূর্ণিঝড় মিধিলির পর পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ২৫ মাঝিমাল্লাসহ নিখোঁজ তিন ট্রলারের মাল্লা (মাঝি) ছিল জিসান প্যাদা। সে উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ঝিলাম প্যাদার ছেলে।
জানা গেছে, জিসানের সঙ্গে তার খালতো ভাই তামিমও জেলে হিসাবে ছিল ওই ট্রলারে। তারও সন্ধান মিলছে না। কোথায় আছে, কেমন আছে, তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছে- তা জানে না কেউ। জিসান-তামিমের পরিবারের মতোই স্বজন ফিরে আসার প্রতীক্ষার প্রহর গুনছে আরও ২৩ পরিবার। সময় যতই গড়াচ্ছে, উৎকণ্ঠা বাড়ছে। নিখোঁজ জেলেদের বাড়িতে বাড়িতে চলছে আহাজারি। সোমবার নিখোঁজের চারদিন হলেও এখনও কারও সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে প্রশাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি পরিবারের।
পুলিশের তথ্যানুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় মিধিলিতে উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কাউখালী গ্রামের বাসিন্দা হাসান জোমাদ্দারের ট্রলারের ৮, মৌডুবী ইউনিয়নের কাজিকান্দা দিদার মৃধার ট্রলারের ৮ ও একই এলাকার হিমু হাওলাদারের মালিকানাধীন ট্রলারের ৯ জেলে নিখোঁজ হয়। তাদের মধ্যেই নিখোঁজ হওয়া উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের নয়াভাঙ্গুণি গ্রামের জহির মাঝি। সরেজমিন তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, জহিরের মা, স্ত্রী ও তিন সন্তানের কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
এদিকে ট্রলার মালিকরা বলছেন, বুধবার সকালে গভীর বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার করার উদ্দেশে ট্রলার ছেড়ে যায়। কিন্তু পরে ঘূর্ণিঝড় মিধিলির পর আর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তারা কোথায় আছে, কীভাবে আছে, কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
© Deshchitro 2024