আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে  বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ  আসন   চট্টগ্রাম  ১১ বন্দর - পতেঙ্গা ( জাতীয় সংসদের আসন নং ২৮৮ ) এলাকায়  নৌকার মাঝি কে হচ্ছেন তা নিয়ে  ব্যাপক  জল্পনা কল্পনা শুরু  হয়েছে।

এরই মধ্যে এই আসনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন  পেতে ২৮ জন  মনোনয়ন ফরম  কিনেছেন। এ নিয়েও দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের  মাঝে ব্যাপক  কৌতুহল দেখা দিয়েছে। সর্বত্র আলোচনার ঝড় উঠছে  কে পাচ্ছেন ,  কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি ? 

চট্টগ্রামের  এই আসন থেকে সর্বোচ্চ ২৮ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী ফরম সংগ্রহ করেছেন। তারা হলেন  - তিন তিন বার নির্বাচিত বর্তমান সংসদ সদস্য  এম এ লতিফ , নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সিটি করপোরেশনেন সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন ,  নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, নগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য শেখ মোহাম্মদ ইসহাক,  নগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মো. শফর আলী,কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম বাহাদুর,  কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন ,
কাউন্সিলর ছালেহ আহম্মদ চৌধুরী,সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী , মুক্তিযুদ্ধা মোজাফফর আহমদ, মোহাম্মদ এনামুল হক,
মোঃ মসিউর রহমান চৌধুরী , দেবাশীষ পাল দেবু, রেখা আলম চৌধুরী, জাবেদ ইকবাল,  মো.রাশেদুল হাসান,  ব্যারিস্টার  সওগাতুল আনোয়ার খান; মাহবুবুর রহমান, শেখ নওশেদ সারওয়ার পিলটু , আকবর  হোসেন,  এম এনামুল হক চৌধুরী ,  হাজি ইকবাল আলি,  মোঃ আবদুল লতিফ,   মোঃ ইলিয়াছ, মোহাম্মদ আমিনুল হক বাবু ,  ইমরান ফাহিম নুর,  সায়রা বানু রুশ্নি।

এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকা দীর্ঘ হলেও  মূল আলোচনায় রয়েছে   ৪ জন,  এরা  হলেন বর্তমান সংসদ সদস্য এম এ লতিফ , আ জ ম নাছির উদ্দীন,  খোরশেদ আলম সুজন  ও  আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু। এর মধ্যে দলীয় মনোনয়ন কে পাচ্ছেন  তার জন্য  হয়তো আরো একদিন  অপেক্ষা করতে হবে।

আওয়ামী লীগের  বেশ কয়েকজন  নেতার সাথে  আলাপ করে জানা যায়, এবার আওয়ামী লীগ সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তি ও উন্নঙডয়ন সমৃদ্ধ দেশ  গড়তে এ আসনে একজন পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিকে নৌকার মাঝি হিসেবে মনোনীত করবেন। তাদের দাবি, অনেক আগেই এই আসনের নৌকার মাঝি মনোনয়নে যোগ্য প্রার্থী কে
হবে তা বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য, দলীয়ভাবে গোপনীয় তথ্য ও প্রার্থীর আমলনামা দলীয় সভানেত্রীর হস্তগত হয়েছে। সেই আমলনামার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় যার জনসমর্থন আছে, ক্লিন ইমেজে যেএগিয়ে থাকবেন তাকেই দলীয় টিকিট দেয়া হবে বলে আওয়ামী লীগের সূত্র জানিয়েছে। তবে কেউ কেউ নিজের আমলনামা নিয়ে শঙ্কিতও রয়েছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে। এই আসনের মোট ভোটার ৫ লাখ ৭ হাজার ৪০৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৬১ হাজার ৩৪ জন এবং নারী ২ লাখ ৪৬ হাজার ৩৭১ জন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১০টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই সংসদীয় আসনের এলাকাতেই চট্টগ্রাম বন্দর, চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা (সিইপিজেড) ও কর্ণফুলী ইপিজেড।

বন্দর ও দুটি ইপিজেডকে ঘিরেই এখানে বসতি গড়েছেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শ্রমজীবী মানুষ। পাশাপাশি বন্দর-পতেঙ্গা এলাকার আদি বাসিন্দারাও আছেন।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024