অনলাইন ডেস্ক: 


ইসরায়েলি হামলায় মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে গাজা। হামলায় শিশুসহ প্রাণ গেছে ৩২ জনের। হামলায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৬৫ জন। আহতদের চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। জ্বালানি সংকটে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় জেনারেটর দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জেনারেটরের মাধ্যমে আর ৪৮ ঘণ্টা হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে। জ্বালানি না থাকায় এরপর আর হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা থাকবে না। 


আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্রুত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। 


গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিচালক মেদহাত আব্বাস বলেন, ‘যেভাবে বিদ্যুৎ যাচ্ছে এতে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আমাদের কাছে এখন পর্যাপ্ত জ্বালানি নেই।’ 


এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত শুক্রবার থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল শনিবার দিনভর হামলার ঘটনা ঘটেছে। জাবালিয়াসহ গাজা উপত্যকাজুড়ে বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনা লক্ষ করে এই হামলা চালানো শুরু করে ইসরায়েল। 

ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের দাবি, গত শুক্রবার থেকে ফিলিস্তিন প্রায় ৬০০ রকেট ও মর্টার নিক্ষেপ করে। আর হুমকি মোকাবিলায় পাল্টা এই হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। 


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনির মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে মিশর। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গাজায় মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ জন্য দুই পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখছে কায়রো।


 এ ছাড়া গাজা উপত্যকায় হামলার বিষয়ে ইসরায়েল ও গাজার প্রতিরোধযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধানের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন গাজা ও এর আশপাশে সাম্প্রতিক ঘটনাবলিকে অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। ইইউ সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম রাখার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে আরও হতাহতের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।’ 


উল্লেখ্য, গাজায় ২০২১ সালের মে মাসে টানা ১১ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর সবশেষ এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটল। সে সময় বেশ কয়েকজন ইসরায়েলি ও দুই শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়।  

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024