পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইমিগ্রেশনের সার্ভার চারনদিন ধরে নষ্ট। ই-পাসপোর্টের অনলাইন এ সার্ভার বিকল হওয়ায় দেশ-বিদেশের শত শত যাত্রী পারাপারে ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। কবে নাগাদ সার্ভার সচল হবে বুড়িমারী ইমিগ্রেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না।

জানা গেছে, পাসপোর্টধারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ই-পাসপোর্ট অনলাইন সার্ভারে সংরক্ষিত থাকে। বিভিন্ন দেশে গমনিচ্ছুক ও আগমণকারী পাসপোর্ট ও ভিসাধারী ব্যক্তিদের তথ্যের সঠিকতা দেখে পুলিশ ইমিগ্রেশনে দায়িত্বরত কর্মকর্তাগণ সার্ভারে গমনাগমনের তথ্য সংরক্ষণ করেন। এরপর সার্ভার সংযুক্ত ক্যামেরায় ছবি তুলে ব্যক্তিকে যাচাই করেন ও সিল সই দিয়ে যাওয়া-আসায় অনুমতি দিয়ে থাকেন। পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) কর্তৃক এসব নিয়ন্ত্রণ করা হয়। 

ত ০৯ ডিসেম্বর সকাল হতে বুড়িমারী ইমিগ্রেশনের ই-পাসপোর্ট অনলাইন সার্ভারে কাজ করতে গিয়ে সার্ভার না খোলায় (ওপেন না হওয়া) কাজ করা বা তথ্য এন্ট্রি দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। এতে বিভিন্ন দেশ ও স্থান হতে আসা গমনিচ্ছুক ও আগমণকারী ব্যক্তিদের ভিড় জমে। এ ঘটনা পুলিশের বিশেষ শাখার মাধ্যমে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট বিভাগ ঢাকার প্রকৌশলীদের জানানো হয়। 

প্রকৌশলীরা তথ্য উপাত্ত ঘেটে জানায়, বুড়িমারী ইমিগ্রেশনে সংযুক্ত কম্পিউটারের (পিসি) সমস্যার কারণে সার্ভার কাজ করছেনা। দ্রুত ঢাকায় এনে ঠিক করতে নতুবা নতুন বিশেষ কম্পিউটারে (পিসি) সার্ভার ইনস্টল করতে হবে। ওইদিনই বুড়িমারী ইমিগ্রেশনের কম্পিউটারটি (পিসি) ঢাকায় পাঠানো হয়। শত শত যাত্রীদের পারাপারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) অনুমতি সাপেক্ষে ম্যানুয়ালি পাসপোর্টের নম্বর ও তথ্য নোট নিয়ে যাত্রী পারাপার সচল করা হয়। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ম্যানুয়ালি কাজ করলেও পাসপোর্ট ও ভিসাধারী ব্যক্তির প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট বিভাগ এবং এয়ারপোর্ট ঢাকার প্রকৌশলীদের সহযোগীতা নেওয়া হচ্ছে। পাসপোর্ট নম্বর পাঠিয়ে যাত্রীদের দেশ-বিদেশ গমণে কোনো আপত্তি আছে কিনা এসব যাচাই করে সবুজ সংকেত বা ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পরই পারাপারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এতে একটু সময় বেশি লাগছে। 

ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা এলাকার বাসিন্দা বাংলাদেশ ঘুরতে আসা পর্যটক রাখাল অধিকারী (৪৩) বলেন, ‘বেলা সাড়ে ১২ টা থেকে বুড়িমারী ইমিগ্রেশনের রুমে এখনও বসে আছি। এখন প্রায় ৪ টা বাজে। সার্ভারে কাজ করা নাকি যাচ্ছে না।’  

বাংলাদেশের রংপুর জেলার আলমনগর এলাকার বাসিন্দা সুইটি বেগম (৪৯) বলেন, ‘চিকিৎসা করাতে ভারতে যাবো। সার্ভারের সমস্যার জন্য নাকী কাজ হচ্ছে না।’ লালমনিরহাট পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এ ব্যাপারে বলেন, ‘সার্ভার নষ্ট হওয়ার বিষয়টি জানি। এটি মেরামত করার জন্য দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই চলে আসবে। ঢাকার সংশ্লিষ্ট বিভাগে যোগাযোগ হচ্ছে, আমাদের লোক দ্রতই নিয়ে আসবে।’ 

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024