নোয়াখালীতে বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে কিশোর অপরাধীরা। নিজের ‘হিরোইজম’ প্রকাশ করতে চালু করছে ‘গ্যাং কালচার’। তুচ্ছ ঘটনা নিয়েই ঘটাচ্ছে হত্যা। এছাড়া  অপহরণ, ধর্ষণ, ছিনতাই, নারীদের উত্যক্ত করাসহ নানান অপরাধে এরা জড়িয়ে পড়ছে। 


এমনকি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কিংবা অন্য গ্যাংয়ের সাথে তুচ্ছ বিরোধকে কেন্দ্র করে খুনখারাবিতে জড়াতেও পিছপা হচ্ছে না কিশোর অপরাধীরা।


উদ্বেগের বিষয় হলো, মাদক নেশার টাকা জোগাড় করতে ছোটখাটো অপরাধে জড়ানো কিশোর অপরাধীরা বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হয়ে উঠছে ভয়ঙ্কর অপরাধী, এলাকার ত্রাস। আরও উদ্বেগের বিষয়, ভাড়াটে হিসেবে তারা মানুষ হত্যা কিংবা নির্যাতনের মতো অপরাধে যুক্ত হচ্ছে।


একদিকে কিশোর অপরাধীদের কর্মকাণ্ডে স্থানীয়দের আতঙ্ক বাড়ছে, অন্যদিকে বাড়ছে পুলিশ প্রশাসনের দুশ্চিন্তা। আগামী প্রজন্মকে অপরাধমুক্ত রাখতে হলে কিশোর গ্যাং সংস্কৃতির লাগাম এখনই টেনে ধরার পাশাপাশি তাদের ইন্ধনদাতাদেরও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সুশীল সমাজের নেতারা। 


দৈনিক দেশচিত্রের অনুসন্ধানে জানা যায়, নোয়াখালীর ৯ উপজেলাতেই কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে সদর, বেগমগঞ্জ ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। এসব কিশোর অপরাধীরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মার্কেট, সরকারি অফিস, হাসপাতাল ও রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন অপরাধ করছে। অধিকাংশ স্থানেই এসব অপরাধীরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটির পর বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে এবং উচ্চ শব্দে হর্ন বাজিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে উত্যক্ত করছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল বিকেলে বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর গ্রামের মালেকার বাপের দোকান এলাকায় প্রবাসী মাওলানা আবু জাহেরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে কিশোর রিমন ও তার সহযোগীরা। সেসময় আবু জাহেরের কোলে তার ৫ বছর বয়সী একমাত্র সন্তান তাসফিয়া আক্তার (৫) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। ওই ঘটনায় ১৭ জনের নামে ও অজ্ঞাত ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা হয়। বিভিন্ন অভিযানে ১৪ জনকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহীনির সদস্যরা। তাদের মধ্যে ৪ জন দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেয়।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024