৭ জানুয়ারী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন। রাজশাহী-১ আসনটি গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলা নিয়ে গঠিত। নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা শেষ। প্রার্থী ও সর্মথকদের প্রচার প্রচারনা শেষ হলেও সাধারন ভোটারদের মাঝে শুরু হয়েছে জয় পরাজয়রে হিসাব নিকাশ। এখন শুধু সাধারন ভোটারদের মাঝে জয় পরাজয়ের হিসাব নিকাশের ঝড় উঠেছে চায়ের স্টলে, রাস্তা ঘাটে, গন পরিবহনে ও পাড়া মহলায়। কোন প্রার্থীর নির্বাচনে জয় হবে আর কোন প্রার্থীরা পরাজয় বরণ করবে তা নিয়েই কাটছে সাধারন ভোটারদের সময়। 

বাংলাদেশের মধ্যে রাজশাহীর-১ আসনটি অন্যসব আসনের চেয়ে এবার একটু বেশি আলোচিত। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ভোটের মাঠে আছেন চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি (ট্রাক প্রতকি)। চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ভোটের মাঠে থাকায় নজর কেড়েছে সবার। এ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী (নৌকা প্রতিক), স্বতন্ত্র প্রার্থী তানোর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র গোলাম রাব্বানী (কাঁচি প্রতিক) ও আয়েশা আক্তার ডালিয়াসহ (বেলুন প্রতিক) ১১ প্রার্থী রয়েছে ভোটের মাঠে। তবে সতন্ত্র প্রার্থী আকতারুজ্জামান আকতার সাংবাদিক সম্মেলন করে স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম রাব্বানীকে (কাঁচি প্রতিক) সমর্থন দিয়ে ভোটের মাঠ থেকে সরে দাড়ায় পাল্টে গেছে ভোটের হিসাব নিকাশ। এক প্রার্থী ঘোষনা দিয়ে ভোটের মাঠ থেকে সড়ে যাওয়ায় ১০ জন প্রার্থী মধ্যে সব চাইতে বেশী প্রচার প্রচারণা চালিয়েছেন আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী (নৌকা) , চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি (ট্রাক), গোলাম রাব্বানী (কাঁচি) ও আয়েশা আক্তার ডালিয়া। এ চার জন প্রার্থীকে সাধারন ভোটাররা চিনতে পারলেও অন্য প্রার্থীদের সাধারন ভোটাররা তেমন চেনেন না। চার জন ছাড়া অন্য প্রার্থীদের তেমন ছিলনা প্রচার প্রচারণা। অচেনা প্রার্থীদের মধ্যে ২/৩ জন প্রার্থীতাদের নির্বাচনী এলাকায় পোষ্টার ঝুলালেও বাঁকীদের তেমন পোষ্টারও ছিলনা। তাই সাধারন ভোটাররা ৪/৫ জন প্রার্থীকে চিনলেও বাকীদের চিনতে পারেনি।

এদিকে বড় একটি রাজনৈতিক দল বিএনপি ভোট বর্জন করায় ভোটের মাঠে ছিলনা ভোটের চরম উত্তাপ। যে টুক ভোটের উত্তাপ ছিল তা একই দলের (আওয়ামীলীগ) আরো ৩জন সতন্ত্র প্রর্থী থাকায়। সতন্ত্র প্রার্থী থাকায় ভোটের মাঠে কিছুটা ভোটের উত্তাপ ছড়িয়েছে।

সাধারন ভোটাররা তাদের জয় পরাজয়ের হিসাব নিকাশে কেউ কেউ তানোর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র গোলাম রাব্বানীকে (কাঁচি প্রতিক) এগিয়ে রাখছে। আবার কেউ কেউ আওয়ামীলীগের মনোনিত বর্তমান সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীকে (নৌকা প্রতিক) এগিয়ে রাখছে। এছাড়াও তরুন ভোটার ও মহিলারা চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিকে (ট্রাক প্রতিক) এগিয়ে রাখছে।

এ আসনে রাজনৈকিত বিশ্লেষকরা এবারের ভোটকে একটু অন্য চোখে দেখছে। রাজনৈকিত বিশ্লেষকদের মতে আওয়ামীলীগের মনোনিত প্রার্থী ( নৌকা প্রতিক) পাশ করলেও বা আওয়ামীলীগের সতন্ত্র প্রার্থী পাশ করলেও সরকার গঠন করবে আওয়ামীলীগ। 

প্রধান মন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল জনসভায় পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার কথা বলায় ও আওয়ামীলীগের নেতারা সতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় দল থেকে তাদের বহিস্কার না করায় ভোটের মাঠে সতন্ত্র প্রার্থীদের অবস্থানও শক্ত হয়ে উঠেছে। প্রার্থীদের জনপ্রিয়তাই এ আসনে প্রাধান্য পাচ্ছে বলে সাধারন ভোটাররা জানায়। সাধারন ভোটাররা বলছে প্রার্থীদের আমল নামা দেখে তারা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিবে। আবার কিছু কিছু ভোটার পরির্বতনের পক্ষেও সাফাই গাইছে।   

তবে এই আসনে এবারের নির্বাচনে জয় পরাজয়ের হিসাব নিকাশের অংকটা জটিল হয়ে উঠেছে। 


প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024