◾মাওলানা ইসমাইল নাজিম 


মহানবী (সা.) ছিলেন মানবিক শিষ্টাচারের আধার। নম্রতা তাঁর চরিত্রের উৎকৃষ্ট দিক। আল্লাহর সামনে তিনি ছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে নম্র ব্যক্তি। অত্যন্ত বিনয়-নম্রতা ও খুশু-খুজু নিয়ে ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। মানুষের সঙ্গেও তিনি অত্যন্ত কোমল-নম্র আচরণ করতেন। নিচে কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরা হলো—

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘একবার এক বেদুইন মসজিদে প্রস্রাব করে দিল। লোকজন উঠে তার দিকে তেড়ে গেল। রাসুল (সা.) বলেন, তার প্রস্রাব করায় বাধা দিয়ো না। অতঃপর তিনি এক বালতি পানি আনালেন এবং তাতে ঢেলে দিলেন।’ (বুখারি: ৬০২৫) 


অন্য বর্ণনায় আনাস (রা.) বলেন, ‘আল্লাহর শপথ, আমি ৯ বছর রাসুল (সা.)-এর সেবায় নিয়োজিত ছিলাম। কিন্তু আমার জানা নেই যে কোনো কাজ আমি করেছি, অথচ তিনি সে ব্যাপারে বলেছেন, এরূপ কেন করলে? কিংবা কোনো কাজ করিনি, ওই ব্যাপারে বলেছেন, কেন ওই কাজটি করলে না?’ (মুসলিম: ২৩০৯) 


আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) নিজ হাতে কোনো দিন কাউকে আঘাত করেননি—কোনো নারীকেও না, খাদেমকেও না। …’ (মুসলিম: ২৩২৮) 


আনাস (রা.) বলেন, ‘একদিন আমি রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে হাঁটছিলাম। তখন তাঁর গায়ে একটি গাঢ় পাড়যুক্ত নাজরানি চাদর ছিল। এক বেদুইন তাঁকে পেয়ে চাদর ধরে সজোরে টান দিল। আমি নবী করিম (সা.)-এর কাঁধের ওপর তাকিয়ে দেখলাম যে জোরে চাদর টানার কারণে তাঁর কাঁধে চাদরের পাড়ের দাগ বসে গেছে। তারপর বেদুইন বলল, “হে মুহাম্মদ, তোমার কাছে আল্লাহর দেওয়া যে সম্পদ আছে, তা থেকে আমাকে দেওয়ার জন্য আদেশ করো।” তখন মহানবী (সা.) তার দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলেন এবং তাকে কিছু দান করার জন্য আদেশ করেন।’ (বুখারি: ৬০৮৮)


লেখক: ইসলামবিষয়ক গবেষক

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024