কক্সবাজার জেলায় দু’দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা কমেছে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার বিকেলে থেকে হিমেল হাওয়ায় বেড়েছে শীতের তীব্রতা। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। সবচেয়ে বেশি অসহায় হয়ে পড়েছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের ভিড়। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হান্নান বলেন, শনিবার (১৩ জানুয়ারি) কক্সবাজারে এই মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল। এদিন সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান বলেন, দু’দিন আগে কক্সবাজারে তাপমাত্রা ১৬ থেকে ১৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস ছিল। ফলে দু’দিনের ব্যবধানে ৪ ডিগ্রী কমেছে। আজ রবিবার ও আগামীকাল সোমবার এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। তাপমাত্রায় দিন-রাতের তারতম্যের কারণে তীব্র শীত অনুভুত হচ্ছে।


কক্সবাজার সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শনিবার সকাল থেকে অসংখ্য রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে শিশু-বয়স্কদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। আক্রান্তদের মধ্যে নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়া রোগী বেশি। হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিতকরা জানান, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে শিশু ও বয়স্ক মানুষের বের না হওয়াই ভালো। তবে খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছেন বেশ বিপাকে। হিমেল বাতাস আর ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে তাদের সাধারণ জীবন যাপন। এদিকে শনিবার সন্ধ্যা থেকে জনজীবনে একধরনের স্থবিরতা লক্ষ্য করা গেছে। যারা বাইরে বের হয়েছেন তারা মোটা গরম কাপড় শরীরে মুড়িয়ে নিয়েছেন। শহরের দোকানগুলোতে বেড়েছে শীতবস্ত্রের চাহিদা। নিম্ন আয়ের মানুষ প্রচণ্ড শীত থেকে বাঁচার জন্য গরম কাপড় কিনতে ভীড় করছেন ফুটপাত ও দোকানগুলোতে।


শহরের লালদীঘির পাড়স্থ ভাসমান দোকানদার মোহাম্মদ ছোবান বলেন, ‘বিভিন্ন পেশার মানুষ আমাদের কাছে শীতের পোশাক কিনতে আসেন। তাদের মধ্যে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতাই বেশি। সেই সঙ্গে ভ্যানচালক, রিকশাচালক, দরিদ্র নারী-পুরুষ শীতবস্ত্র কিনছেন। এসব পোশাকের দামের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সর্বনিম্ন ৫০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত শীতের পোশাক বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে সোয়েটার, ট্রাউজার, জ্যাকেট, মাফলার, মানকি ক্যাপ, প্যান্ট, শার্ট, পায়ের ও হাতের মোজাসহ নানা রকমের শীতের পোশাক বিক্রি হচ্ছে।


এদিকে রাতে শহরের বেশ কিছু এলাকায় পুরনো কাপড়, কাগজ ও গাছের ডালপালা পুড়িয়ে আগুন পোহাতে দেখা যায় নিম্নআয়ের মানুষদের। আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। কুয়াশার বিষয়ে বলা হয়, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং এটি কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগে সাময়িকভাবে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024