সমস্যা ও অভাব  যেন নিত্যসংগী  লাখাইয়ের  গিনিয়ার পরিবারে।  



লাখাই উপজেলার ৬ নম্বর বুল্লা ইউনিয়ন এর পশ্চিম বুল্লা ঋষি পল্লীর মৃত কানু রবিদাস স্ত্রী গিনিয়া রবিদাস। 

বিধবা গিনিয়া রবিদাস এর পরিবারে   অভাব যেন নিত্য সঙ্গী। 

কথায় বলে দূর্ভাগ্য একা আসেনা।তেমনি গিনিয়া রবিদাস এর পরিবারে অভাব অনটনের সাথে নানা সমস্যা যেন পিঁছু ছাড়ছেনা।

খোঁজ নিয়ে জানা  যায়   বছর বিশেক পূর্বে স্বামী কানু রবিদাস গত হয়েছেন।পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে গিনিয়া ছোট্ট ছোট ছেলে - মেয়ে নিয়ে পড়েন অথৈজলে।তবুও ভেঙে না পড়ে শোককে শক্তিতে পরিনত করে বিভিন্ন ধরনের কাজকর্ম ও সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে অতিকষ্টে দিনাতিপাত করে আসছেন। এর মধ্যে বড় ছেলেটা কিছুটা আয়রোজগার করতে থাকে।স্থানীয় বুল্লাবাজার এ রাস্তার পাশে পুরনো জুতা সেলাই করে যা আয় হয় তাতে কোন রকমে চলে যাচ্ছিল।এরই মধ্যে বিগত ৭/৮ মাস পূর্বে তাঁর একমাস উপার্জনক্ষম ছেলে কামাল রবিদাস সড়ক দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলে চিকিৎসার খরচ মেটাতে সর্বশান্ত হয়ে ঋনে জর্জরিত হয়ে পড়ে।পরবর্তীতে ছেলে কামাল রবিদাস এর স্ত্রী রুমি রবিদাস 

 বিগত বর্ষায় ঝড়বৃষ্টির সময় ঘর থেকে বের হওয়ায় বজ্রপাতে আহত হয়। 

তার পরও দূর্ভাগ্য পিঁছু ছাড়েনি বিগত ৬ মাস পূর্বে ঘর থেকে বের হওয়ায় সময় পা পিছলে পড়ে কোমর ভেঙে যায় গিনিয়া রবিদাসের। তাঁর চিকিৎসা করালে তেমন কোন উন্নতি হয়নি আর উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার মতো আর্থিক সংগতি না থাকায় বর্তমানে বিনা চিকিৎসায় শয্যাশায়ী হয়ে দূর্বিসহ জীবন যাপন করছে।

সরজমিন পরিদর্শনে ও   গিনিয়া রবিদাস এর পুত্র কামাল রবিদাস এর সাথে আলাপকালে জানা যায়  বিগত বছর দেড়েক আগে ঝড়ে তাঁদের মাথা গোঁজার ঠাঁই ডেড়া ঘর খানা ভেঙ্গে পড়ে এবং  সে ঘর এখনো পুননির্মাণ করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। তাই নিরুপায় হয়ে পল্লীর  অন্য একজন আত্বীয়ের ঘরে বসবাস করছে। শুন্য ভিটার পাশে উঠানে শোয়া অবস্থায় আলাপকালে গিনিয়া রবিদাস এ প্রতিনিধিকে জানান আমার কষ্টের শেষ নেই। উপার্জনক্ষম ছেলেটাও সড়ক দূর্ঘটনার পর থেকে তেমন রোজগার করতে পারে না।যা ছিল তা এবং ধারদেনা করে চিকিৎসা যতটুকু পারছি করেছি। বয়স হয়েছে তাই চিকিৎসায় তেমন বেশি ফল আসবে বলে মনে হচ্ছে না।

ষাটোর্ধ গিনিয়া রবিদাস আরোও জানান স্বামী মারা গেছে অনেকদিন আগে। এখনো বিধবা ভাতা বা অন্য কোন ভাতার সুবিধা ও সাহায্য সহযোগিতা পাইনি।স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আশা দিয়েছেন তাই অপেক্ষায় রইলাম। 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউ,এন,ও) নাহিদা সুলতানা এর সাথে আলাপকালে জানান গিনিয়া রবিদাস প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে বয়স্কভাতা অথবা বিধবা ভাতা ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024