বায়ান্নের ৮ ফাল্গুন, ফুল ফুটতে শুরু করেছে সোনালী আভায়,

শীত যে কেবল যায় য়ায়,

কৃষকের কামকাজ যে প্রায় ফুরায় ফুরায়।

এ’রি মাঝে বসন্ত এসে হাজির কৃষকের চৌকাঠায়!


রাঙা মায়ের উঠানে রক্তিম সূর্যের উঁকি;

উষ্ণতা বয়ে দিলো ফুলে ফুলে।

জবা, গাধা, শিমুল ফুঠেছে থোকায় থোকায়!

গাছে গাছে তরুণ পাতাদের হাতছানি,

ফসলের ক্ষেতে নতুন চারা ধানগাছ— সারা মাঠ ছেঁয়ে আছে সবুজে সবুজে।

আবার কোথাও কোথাও হলুদ সরিষা ফুল আছে মাঝে।

যেন ফাল্গুনে রুপালী বাংলা সে প্রস্তুত বসন্ত বরণে!


ঠিক তখন'ই উঁকি দিল এক শকুনের দল,

প্রথম থাবাটাই দিল আমার মায়ের দিকে;

যেই মা থাকে আমাদের অন্তরে অন্তরে, আমাদের মুখে মুখে!

সালাম, জব্বার, রফিকসহ সকল ছাত্রজনতা ভেঙে পরলেন প্রতিবাদে।

ঝরলো কতো তাজা প্রাণ, কতো তাজা ফুল!

নিজেদের প্রাণ বিলিয়ে দিলেন মায়ের জন্যে— যেই মা থাকে আমাদের অন্তরে অন্তরে,

আমাদের মুখে মুখে।


দুঃখিনী মায়ের কোল হলো খালি, চোখ হলো ভারী।

আজো ফাল্গুন এলে দুঃখিনী মায়ের বুক কেঁপে উঠে;

এতো এতো ফুল ফুটল, এতো রঙের পুষ্প

চারদিকে— তার সবকটি পুষ্প অর্পণে শ্রদ্ধা জানালেও কভু পারে না তাঁর সন্তান হারার বেদনা ভুলাতে।



প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024