মোহাম্মদ ইমাদ উদ্দীন
ইতিহাসে এমন অনেক লোকের সন্ধান পাওয়া যায়, পৃথিবী থেকে চলে গেলেও এখনো তাঁরা জীবিত। কেবল নামই নয়, বরং নামের সাথে তাদের চরিত্র ও গুণাবলীরও ফুঠে উঠে।সেসব স্বরণীয় ব্যক্তিদের অন্যতম হলেন প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব মাওলানা মুহাম্মদ সাহেব (রহ)। তিনি দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানার সাতবাড়িয়া নগরপাড়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ফখরে বাংলা মাওলানা আব্দুল হামীদ (রহ)'র চাচাতো ভাই ছিলেন।তিনি কলকাতা আলিয়া মাদরাসা হতে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করেন। মাওলানা মুহাম্মদ সাহেব (রহ) ছাত্র জীবনে যেমনিভাবে সুনাম ও খ্যাতি অর্জন করেছেন তেমনিভাবে কর্মজীবনেও ব্যতিক্রম ছিলেন না। তিনি কর্মজীবনে চট্টগ্রাম মোহছেনীয়া মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। কিছুদিন প্রধানের দায়িত্বও পালন করেন। এমন কি তিনি চট্টগ্রাম সোবহানিয়া আলিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সোবহান সাহেবের সাথে থেকে এই দ্বীনি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন।
মাওলানা মুহাম্মদ সাহেব (রহ) একজন প্রবীণ ও দক্ষ আলেম আলেম ছিলেন। তিনি উত্তম আদর্শ ও অনুপম চরিত্রের অধিকারী সুমহান ব্যক্তিত্ব ছিলেন। নম্রতা ও বিনয়বনতা, দানশীলতা, তাকওয়া ও পরহেজগারী এবং আশেকানে রাসূল প্রভৃতি গুণাবলীতে তিনি ছিলেন অনন্য ও অসাধারণ। তিনি সত্য ভাষী, সহিষ্ণু, ধৈর্যশীল এবং অসাধারণ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন ছিলেন। ইসলাম ও শরীয়তের সুরক্ষায় এবং রাসূল পাক (সাঃ) এর মান সম্মান সমুন্নতা রাখার ব্যাপারে মাওলানা মুহাম্মদ সাহেব (রহ) সব সময় নির্ভীক ভূমিকা পালন করেন। এই আলেমে দ্বীন একজন আদর্শ শিক্ষকের পাশাপাশি বিশিষ্ট সমাজ সেবক, সমাজ সংস্কারক ও দক্ষ সংগঠক ছিলেন। এই আলেমে দ্বীন মাওলানা মুহাম্মদ সাহেব (রহ) কে তাঁর নিজ গ্রামে চিরশায়িত করা হয়। আল্লাহ পাক তাঁকে আন্বিয়া, সোলাহা ও শুহাদার সাথে জান্নাতুল ফেরদাউসের আলা ইল্লিয়িনে মর্যাদাপূর্ণ স্থান নসীব করুন। তাঁর জীবন ছিল সত্যিকারভাবে মানবতার কল্যাণে নিবেদিত। ইতিহাসে তিনি অস্লান ও বিরল ব্যক্তিত্ব হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবেন।
তথ্য সূত্র:
১. ড. হেলাল উদ্দীন মুহাম্মদ নোমান, "চট্টগ্রামের আলিম সমাজ জীবন ও কর্ম" (পিএইচডি গ্রন্থ)
২.চন্দনাইশের ইতিহাস, সোহেল মো. ফখরুদ-দীন।