|
Date: 2024-04-03 15:47:40 |
রঙপুরে সদ্য প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি তিস্তা ইউনিভার্সিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আলামিন (ইভান চৌধুরী) বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ছয় তলায় একটি কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে অবস্থান করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, আল আমিনের পড়াশোনা শেষ হয়েছে গত দুই বছর আগে। তিনি লোকপ্রশাসন বিভাগের (২০১৫-২০১৬ সেশন) সাবেক শিক্ষার্থী । 'ইভান চৌধুরী' নামেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচিত তিনি।
সম্প্রতি তিস্তা ইউনিভার্সিটিতে জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন ইভান। চাকরিরত অবস্থায়ও তিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় চ্যানেল টুয়েন্টি ফোর(চ্যানেল ২৪ অনলাইন) সংবাদদাতা সহ ১০/১২টি অনলাইন ও প্রিন্ট সংবাদপত্রে যুক্ত রয়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এখনো সাংবাদিক পরিচয়েই প্রভাব খাটিয়ে চলছেন।
আরও একটি সূত্রে জানা যায়, ইভান চৌধুরী বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের 'আস্থাভাজন' হওয়ায় প্রশাসনের প্রশ্রয়ে হলের আবাসিক সুবিধা নেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণরুমের তিন শিক্ষার্থী জানান, অবৈধভাবে সাবেক শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবী আরাম করে রুমে থাকে। আমরা হলে সীট বৈধ করেও নিজের সীট পাই না, থাকতে হয় গণরুমে। প্রভোস্টকে বারবার জানালে শুধু আশ্বাস দেন রুমের ব্যবস্থা করে দিবেন। তৃতীয় বর্ষ শেষ করলাম গণরুমে থেকে এখনো রুম পরিবর্তন হলো না।
ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাসেল রানা বলেন, প্রভোস্টের কাছে ৪ বার এপ্লিকেশন দিয়েছি রুম পরিবর্তনের জন্য। তিনি শুধু আশ্বাস দেন। বিবাহিত সাবেক শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবি, পড়াশোনা শেষ হওয়া ক্ষমতাশীন দলের অনেক ছাত্রনেতা হলের সিঙ্গেল সীটে থাকেন।
ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী হেলাল মিয়া বলেন, এক রুমে চৌদ্দজন থাকি। পড়াশোনার পরিবেশ নাই। আমাকে দেওয়া হয়েছিলো এক চাকুরীজীবির রুমে সেখানে আমি উঠতে পারি নাই। আমার স্থান এখন গণরুম।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, বেরোবির হলদুটি সাবেক শিক্ষার্থী, বিবাহিত, রাজনৈতিক নেতাদের দখলে থাকায় সীট বৈধ করেও নিজের সীটে উঠতে পারি না।
আরেক অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি করলে সব সুযোগ প্রদান করেন হলের ছাত্র নেতারা। যারা ফার্স্ট ইয়ারে রাজনীতি করে তারা অনেকেই সিঙ্গেল বেড নিয়ে আছে। এদিকে বাধ্য হয়ে রাজনীতি না করা শিক্ষার্থীরা অনার্স-মাস্টার্স শেষ বর্ষেও ডাবল সীট ও গণরুমে থাকছে।
ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থী জানান, এক সীটে তিন জন থাকি। একটা আলাদা বেড যুক্ত করে। সেখানে আমরা তিনজন লিগ্যাল থাকি। এক বেডে তিন সীটের ভাড়া দিতে হচ্ছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. বিজন মোহন চাকির কাছে চাকুরীজীবি হলে থেকে অফিস করেন এ বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন,মাস্টার্স শেষ করলে কারো হলে থাকার সুযোগ নাই। যারা চাকরি করেন তাদেরও হলে থাকার সুযোগ নাই। এমফিলের ছাত্র হলে থাকলে প্রশাসনের পারমিশন নিয়ে থাকতে হবে।
অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক পরিচয়ে চলেন এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড.মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত হয়েছি। হলের প্রভোস্টকে অনুরোধ করব ব্যবস্থা নিতে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইভান চৌধুরির সঙ্গে কথা বললে তিনি উলটো প্রতিবেদককে প্রশ্ন করে বলেন, জব কবে থেকে শুরু করছি সেটা জানো? কবে থেকে শুরু করছি সেটা বলো। আরেকটু জেনে ফোন দিও। হলে খোঁজ নিও আমার সিট আছে কিনা। আমার বিষয়ে প্রশাসন কী বলেছে বলো? তুমি অনুসন্ধানি নিউজ করবা আমার মেস নেওয়া আছে কি না, কোথায় নেওয়া আছে, মেস কবে থেকে নেওয়া হয়েছে, বুকিং দিয়েছি। হলে কার সীটে আছি, ছোটভাইয়ের সীটে আছি তুমি দেখো।
মো. আলামিনের (ইভান চৌধুরী) বিষয়ে তিস্তা ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার নিশ্চিত করে বলেন, তিনি তিস্তা ইউনিভার্সিটিতে জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে যুক্ত আছেন।
© Deshchitro 2024