|
Date: 2024-04-15 09:08:58 |
ঈশ্বরগঞ্জের লাঠিয়ামারি স্নানঘাটে প্রতিবছর ঈশ্বরগঞ্জ, নান্দাইল, ত্রিশাল উপজেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হিন্দু ধর্মের হাজার হাজার পূণ্যার্থীরা স্নান করতে আসেন। ব্রহ্মপুত্র নদে সারা দেশে প্রতিবছর শুক্লা অষ্টমী তিথিতে এ স্নান অনুষ্ঠিত হয়। এ তিথিতে স্নান করলে পাপ মোচন হয় এ ধারণা থেকেই পুণ্যার্থীরা স্নান করে থাকেন। এ স্নান উপলক্ষে উপলক্ষে এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। স্নান উপলক্ষে স্নানঘাটের সাথে মেলার আয়োজন হয়ে থাকে। এই মেলাতে শরিক হন এলাকার সকল স্তরের মানুষ। এলাকার বাড়িঘরে মেলা উপলক্ষে আত্মীয় স্বজনরা বেড়াতে আসেন। মেলাতে বিভিন্ন রকমের প্লাস্টিক খেলনা সামগ্রী, মাছ, সবজি, মিষ্টি, মাটির খেলনা, মসলা, হাতপাখা, বিন্নি ধানের খইসহ নানা ধরনের পারিবারিক প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেন বিক্রেতারা। অষ্টমী স্নান এর সময় ঘাটের সাথে মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জলন, শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ, গঙ্গাঁপুজা ,অষ্টকালীন লীলা কীর্তীন ও মহাপ্রসাদ বিতরণ। ঘাট পরিচালনা কমিটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক সিন্দু রায় বিপুল এর অর্থায়নে ২০১৭ সালে স্নান ঘাটে একটি গঙ্গা মন্দিরের কাজ শুরু হলেও কাজের সমাপ্তি হয়নি এখনও। মান্দিরের সার্বিক পরিচালনায় থাকা জনি দে জানান, কমিটির সম্মানিত উপদেষ্টা এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী সুশংকর আচার্য্যর সহায়তায় ইত্যেমধ্যে মন্দিরের বাকি কাজ সম্পন্ন করার জন্য বরাদ্ধ পাওয়া গেছে। তবে এই মন্দিরের সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সীমানা প্রাচীর এবং একটি স্নানঘাট নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল হামিদ (৭৩) জানান, এই স্নান ঘাটটি এলাকার ঐতিহ্য। ব্রিটিশ আমল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন এখানে স্নান করতে আসেন। এলাকার মানুষের সার্বিক সহযোগিতায় অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে নদের তীরে স্নান অনুষ্ঠিত হয়। এই ঘাটটির জায়গার কথা জমির বিভিন্ন দলিলে উল্লেখ রয়েছে।
ঘাটটির উন্নয়নের ব্যাপারে জাতীয় সংসদ সদস্য মাহমুদ হাসান সুমন জানান, ঘাটের ঐতিহ্য ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে যে সকল সমস্যা রয়েছে তা সমাধানের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
© Deshchitro 2024