|
Date: 2024-05-02 07:32:44 |
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। এইদিনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে পয়লা মে দিবসে জাতীয় ছুটি হিসেবে পরিচিত। দিবসটি উপলক্ষে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ও বন্ধ ছিল। শ্রমিক দিবসে ছুটির দিনে মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শেখ মাজেদুল হকের ক্লাস করানো নিয়ে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সামালোচনা ঝড় সৃষ্টি হয়।
গতকাল বুধবার (১ মে) সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের পাশে গাছতলায় টানা ৩ ঘন্টা এই ক্লাস নেন তিনি। রংপুরে সকাল নাগাদ তাপমাত্রা ৩৪ সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে যায়। সরকারি বন্ধের দিনে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্লাস নেওয়ায় মানুষিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা। তবে অসুস্থ শিক্ষার্থীরা এই বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
মো: ফারুক হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী ফেসবুক কমেন্টে বলেন, "অন ডে তে ক্লাস বন্ধ ও বন্ধের দিনে ক্লাস। পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্লাস রুম থাকার পরেও বাহিরে ক্লাস। এত টাকা খরচ করে বিভাগ সাজিয়েও কেন বাহিরে ক্লাস নিতে হবে? বাস বন্ধ, গেট বন্ধ, ক্যাম্পাস বন্ধ আর আমাদের প্রিয় স্যার খোলা!!"
মো: জহুরুল ইসলাম জীবন বলেন, "প্রচুর তাপ ঠিক আছে কিন্তু রুমে পর্যাপ্ত ফ্যান রয়েছে। গরমে বাহিরে ক্লাস নেওয়া কেবল লোক দেখানো ছাড়া আর কিছুই নয়।"
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক ও বর্তমান দশের অধিক শিক্ষার্থী জানান, "তিনি নানা ধরণের লোক দেখানো কাজ করে থাকেন। তিনি সব সময় আলোচনায় থাকতে চান।
শিক্ষার্থীরা আরো বলেন,স্যারের একটি ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে। সেখানে বিভাগের শিক্ষার্থীদের দ্বারা নিয়মিত কন্টন্টে বানিয়ে পোস্ট করেন। বাধ্য করেন তিনি লাইক কমেন্ট করতে। তার বানানো ভিডিও থেকে ক্লাসে প্রশ্ন করেন। এবং নানাভাবে চেষ্টা করেন তার ভিডিও দেখাতে।
এসব বিষয়ে বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিরক্ত কিন্তু মুখ খুলতে রাজি না। সে তার অনুগত শিক্ষার্থীদের ভালো নাম্বার দেওয়া ও অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সাথে বৈষম্য করে থাকেন।
এই বিষয়ে মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শেখ মাজেদুল হক বলেন, " দ্রুত কোর্স শেষ করতে আমি এই ক্লাস নেই। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এইধরনের ক্লাস আগ্রহের গ্রহণ করে। প্রতিটা বিষয়ের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক থাকে। আমাদের অবশ্যই ইতিবাচক দিকটি গ্রহণ করা উচিৎ।"
মার্কেটিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ফেরদৌস রহমান দেশচিত্র পত্রিকাকে বলেন," কালকে ক্লাসের ব্যাপারে আমি অবগত ছিলাম না। কেউ যদি অসুস্থ হয়ে যেতো তার দায়ভার একান্ত সেই শিক্ষকের। আজকে ফেসবুকে দেখে বিষয়টি জানতে পারি। আগামী রবিবার ক্যাম্পাস খুললে আমরা আলোচনার মাধ্যমে এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।"
© Deshchitro 2024