বাজারে ক্রেতাদের মাছ কুটে সংসার চালায়  লাখাইর কামরুল। 

লাখাইয়ে বাজারে ক্রেতাদের মাছ কেটে কুটে পরিষ্কার করে বিনিময়ে যে আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালায় উপজেলার জিরুন্ডা মানপুর গ্রামের মৃত হুকুম আলীর পুত্র কামরুল হাসান। 

দীর্ঘ ৩৫ বছর যাবত কামরুল হাসান এ মাছ কাটার পেশার সাথে জড়িত। 

শুক্রবার (৩১ মে) উপজেলার বামৈ চকবাজারে দেখা হয় মাছ কাটার পেশায় জড়িত কামরুল হাসান এর সাথে। 

এ দিন সকালে বামৈ চকবাজারে বিভিন্ন ধরনের ক্রেতার মাছ কাটা অবস্থায় এ প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে  চল্লিশোর্ধ কামরুল হাসান জানানআমি দীর্ঘ ৩৫ বছর যাবত এ পেশায় জড়িত। 

ছোট বেলায় বাবার সাথে ঢাকা শহরে যাওয়ার পর কিছু সেখানে একটি মাদ্রাসায় ভর্তি হই।কিন্তু লেখা পড়া তেমন বেশি করতে না পারিনি।

তাই ঢাকাতেই আয়রোজগার করতে চেষ্টা চালিয়ে অবশেষে  বাজারে মাছ কাটার কাজে জড়িয়ে পড়ি।আয়রোজগার ভালো হওয়ায় আর কোন দিকে যাইনি। 

ঢাকায় থাকাকালীন ঢাকার চকবাজারে মাছ কেটে প্রতিদিন ১ হাজার  থেকে ১২শত টাকা আয় হতো।এভাবেই ঢাকায় প্রায় ৩০ বছর যাবত এ পেশায় জড়িত ছিলাম। 

বিগত ২০১৯ সালে করোনার প্রাদূর্ভাব দেখা দেওয়ায় গ্রামের বাড়ীতে চলে আসি।

গ্রামে এসে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার এ মাছ কাটার কাজ করতে থাকি।কিন্তু তেমন সুবিধা না হওয়ায় অবশেষে বামৈ চকবাজারে আসি।এ বাজারে মোটামুটি চলার মতো আয় রোজগার হওয়ায় অদ্যাবধি এ বাজারে প্রতি দিন কাজ করছি। এখানে মাছ কুটে প্রতিদিন ৬-৭ টাকা আয় হয়ে থাকে। 

এ আয় দিয়ে  আমার ৭ সদস্যের পরিবারের ভরনপোষণ কোন রকমে চলে যাচ্ছে। 

পরিবারে আমার বৃদ্ধা মা,স্ত্রী, ১ ছেলে ও ৩ মেয়ে রয়েছে।  আমার ছেলেমেয়েরা স্থানীয় মাদ্রাসায় লেখা পড়া করছে। 

আমার বসতবাড়ি ও সামান্য কিছু জমিজমা রয়েছে। এ জমি চাষাবাদ করে ও বাজারে মাছ কাটার কাজে যা পাই তা দিয়ে কোন রকমে সংসারটা টেনে নিয়ে যাচ্ছি। 

আমার বৃদ্ধা মায়ের বয়স ৬০ বছর হলেও কোন সরকারি সহযোগিতা পানি। 

আমার সীমিত আয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচছে তদুপরি দিন দিন দ্রব্য মূল্যের বৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে খুবই কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। 

ঢাকায় কাজ করলে আয় বেশি হলেও আর যেতে মন চায় না।ছেলেমেয়েদের লেখা পড়ার জন্য গ্রামেই থাকছি।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024