লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ঈদুল আযহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার ভিজিএফের চাউল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে গড্ডিমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বারদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৩জুলাই) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় চাউল বিতরণে এ অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়।

সরেজমিনে গিয়ে জানাগেছে, চাল বিতরণকালে পরিষদে উপস্থিত ছিলেন না ওই ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাগ অফিসার মো. রাসেল মিয়া। তবে ট্যাগ জানান, আমি অনুপস্থিত থাকায় আমার অফিসের আঃ রহমান নামের এক ষ্টাফকে সেখানে পাঠিয়েছে। তার অনুপস্থিতিতেই প্রত্যেক উপকারভোগীকে ১০ কেজি চাউলে ১ কেজি করে চাউল কম দিয়ে বিতরণ করা হয়েছে।

এমনকি চালের ওজন মাপার জন্য ডিজিটাল স্কেল মেশিন ব্যবহার করা হয়নি। একটি বালতিতে করে মনগড়াভাবে চাল বিতরণ করা হয়।

একাধিক উপকারভোগী জানান, প্রত্যেক দরিদ্র উপকারভোগীকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া কথা থাকলেও ৫০ কেজি ওজনের ১ বস্তা চাউল বালতিতে মেপে দিচ্ছেন ভুক্তভোগীদের নিয়ে আসা বস্তায়। পরে পরিষদের বাহিরে ডিজিটাল স্কেল মেশিন ব্যবহার করে মেপে দেখা যায়, প্রত্যেক বস্তায় ১০ থেকে ১৩ কেজি চাউল কম দেওয়া হয়েছে।

ওই ইউনিয়নের উপকারভোগী চম্পা বেগম বলেন, বস্তায় ১৩ কেজি চাউল কম থাকায় ৭ কেজি চাউল পেয়েছি।  

উপকারভোগী সহিদুল ইসলাম জানান, ৫০ কেজি বস্তায় যদি ১০ থেকে ১৩ কেজি চাউল কম থাকে। তাহলে কত চাউল আমাদের মেরে দিচ্ছে ওই জনপ্রতিনিধিরা।

আরো কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, আমাদের প্রতি বস্তায় ১০/১২ কেজি করে চাউল কম দিয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মেম্বারকে জানালে বাকী চাউল দিতে রাজি হয়নি।

স্থানীয় নুরনবী অভিযোগ করে বলেন 

গড্ডিমারী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আকবর হোসেন এবং ৬নং ওয়ার্ডের জাকির হোসেনের যোগসাজোসে এই অনিয়ম করা হয়েছে।

গড্ডিমারী ইউপি’র প্যানেল চেয়ারম্যান মো: আকবর হোসেন এর কাছে বিষয়টি জানাতে চাইলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান, আমরা কোন চাউল কম দেইনি। বাহিরে কে কি করেছে তা আমার জানা নেই। তবে এখানে দলীয় কোন্দলও কিন্তু রয়েছে।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024