|
Date: 2024-06-15 10:31:25 |
মুসলমানদের দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। আর মাত্র কয়েকদিন পরই কোরবানির ঈদ। এই ঈদের অন্যতম কাজ হচ্ছে পশু জবাই করা। ঈদ-উল আযহাকে সামনে রেখে পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন যশোরের অভয়নগর উপজেলার কামার শিল্পের কারিগররা।
কোরবানি ঈদে গরু, ছাগল, মহিষ, উট কোরবানির পশু হিসেবে জবাই করা হয়। ঈদের দিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কোরবানির পশু জবাই চলে। এসব পশুর গোশত কাটতে দা-বঁটি, ছুরি, ধামা, চাপাতি ইত্যাদি ধাতব হাতিয়ার অপরিহার্য। কেউবা অর্ডারকৃত আর কেউ নিজে লোহাদিয়ে ধারালো সমগ্রী তৈরী করছেন। যেহেতু কোরবানির পশু কাটা-কাটিতে চাই এসব ধারালো অস্ত্র। তাই তো কামাররা এখন এসব তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
লোহা পুড়িয়ে তৈরি হচ্ছে দা-বটি ও চাপাতিসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি। কামার পাড়ায় এখন কারিগরদের যেন দম ফেলারও সময় নেই।
খাওয়া-দাওয়া ভুলে কাজ করছেন তারা। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কাজ। সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কয়েকগুণ ব্যস্ততা বেড়ে যায় তাদের।
কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার দা, ছুরি, বটি, চাপাতি, ধামা-দা তৈরিতে ও পুরনো দা, ছুরিতে নতুন করে শান দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন উপজেলার হাট বাজারসহ বিভিন্ন পাড়ার কামার শিল্পীরা। কোরবানির ঈদ এসে পড়ায় পুরোদিন ব্যস্ততার মাঝেও গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে কামার শিল্পীদের।
সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও কোরবানিতে নতুন দা, ছুরি, চাপাতি, বটি, চাকু তৈরির পাশাপাশি উপজেলার প্রতিটি পরিবারের পুরনো দা, ছুরি, বটি, চাপাতি, চাকুতে শান দিতে ভিড় করছে কামার শিল্পীদের কাছে।
আবার কেউ কেউ এসব যন্ত্রপাতি কিনতেও ভিড় করছে। এ সুযোগে তাদের কাজের দামও বেড়ে গেছে। অন্যান্য সময়ের তুলনায় দা, ছুরিতে শান দেওয়ার কদর বেড়েছে।
হাঁপরের কয়লার চুলায় দগদগে আগুনে গরম লোহার পিটাপিটিতে টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে এসব কামারের দোকান। কেউ হাঁপর টানছেন, সেই হাঁপরে পুড়ছেন কয়লা, জ্বলছে লোহা। কেউ কেউ হাতুড়ি পিটিয়ে তৈরি করছেন দা, বটি, ছুরিসহ মাংস কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম।
© Deshchitro 2024