খানখানাবাদ ইউনিয়নে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে সরকার নিবন্ধিত জেএ টিভি প্রতিনিধি সাংবাদিক গাজী গোফরানের বড় ভাই মোঃ বোরহান উদ্দিনের উপর ইউপি সদস্য কর্তৃক হামলা ও অনুমতিবিহীন ভিকটিমের বাড়িতে প্রবেশ করে বোরহান উদ্দিনের মায়ের শাড়ি ধরে টানা হেঁচড়া করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও মামলা নিয়ে অনতিবিলম্বে ইউপি সদস্য আনোয়ারুল ইসলামকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক সংস্থা (চসাস)। মঙ্গলবার (১৮ জুন) সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ দিদার আশরাফী ও সাধারণ সম্পাদক ওসমান এহতেসাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান।

বিবৃতিতে চসাস নেতৃবৃন্দ বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের জের ধরে এ ধরনের হামলা স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার অন্তরায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৩ জুন খানখানাবাদ ইউনিয়নে জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়মের তথ্য পেয়ে সংবাদ প্রকাশ করে সরকার নিবন্ধিত জেএ টিভি প্রতিনিধি সাংবাদিক গাজী গোফরান। উক্ত সংবাদ প্রকাশের জের ধরে গত শুক্রবার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় খানখানাবাদ জেলেপাড়া বাজার এলাকায় ইউপি সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা মিলে গাজী গোফরানের বড় ভাই মোঃ বোরহান উদ্দিনের উপর হামলা করে। এ সময় স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় বোরহানকে উদ্ধার করে বাঁশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

জানা যায়, ওই ইউপি সদস্যের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এখানেই শেষ নয়। বোরহান উদ্দিনকে হামলার ঘন্টা দুইয়ের ব্যবধানে বিনা অনুমতিতে পুনরায় হামলার উদ্দেশ্যে ওই ইউপি সদস্য দলবলসহ ভিকটিমের বাড়িতে যান। এসময় সাংবাদিকের বাড়িতে কোন পুরুষ লোক না থাকায় ইউপি সদস্য ও তার লোকজন বোরহান উদ্দিনের মায়ের শাড়ি ধরে টানা হেচড়া করে স্কুল পড়ুয়া মেয়েদের ধর্ষণ করার হুমকি প্রদান করে। পরে লোকজনের তোপের মুখে ওই ইউপি সদস্য দৌড়ে পালান।

ভুক্তভোগী বোরহান উদ্দিনের দেওয়া তথ্যমতে, ১৪ জুন সন্ধ্যায় আমি বাজারের দিকে যাওয়ার সময় মেম্বার আনোয়ারুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন লোক আমার পথ আটকে দেয়। মেম্বার আমার কাছে জানতে চান, আমার ভাই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কেন নিউজ করেছে! তবে এ বিষয়ে আমি আমার ছোট ভাইয়ের সাথে কথা বলতে বললে- মেম্বার ও তার লোকজন আমাকে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন। 

নির্যাতনের শিকার সুলতানা ইয়াছমিন রিনা বলেন, মেম্বার আমার ছেলেদের হত্যার উদ্দেশ্যে বিনা অনুমতিতে বাড়িতে প্রবেশ করে ছেলেদের না পেয়ে আমার শাড়ি ধরে টানা হেঁচড়া করে। আমার ছেলে কেন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করল- তাই তিনি আমাদের ঘর জ্বালিয়ে দিবে, ছেলেদেরকে হত্যা করে লাশ গুম করবে এবং আমার স্কুল পড়ুয়া মেয়েদেরকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করবে বলে হুমকি দিয়েছে। তার ভয়ে আমার দুই ছেলে ঈদে বাড়ি আসতে পারেনি। আমাদের ঈদের খুশি বিষাদে পরিণত হয়েছে।

জনপ্রতিনিধি যেখানে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে সহযোগিতা করবেন, তা না করে উল্টো সংবাদ প্রকাশের জের ধরে হামলা করে ফৌজদারি অপরাধ সংগঠিত করেছেন। এতে ওই সাংবাদিক ও তার পরিবারের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন হয়েছে।

চসাস সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ওই সাংবাদিক ও তার পরিবারের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত ওই ইউপি সদস্য ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীদের তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিত ও ভুক্তভোগী ওই সাংবাদিক ও তার পরিবারের সদস্যদের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানান।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024