|
Date: 2024-06-23 05:39:06 |
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বৃহৎ রাজনৈতিক দল। ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগের জন্ম। প্রতিষ্ঠার পর বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠেন আওয়ামী লীগ মুক্তিকামী বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা।
প্লাটিনাম জুবিলীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে আজ ৭৫'র বছর। রাজনৈতিক দলটিকে ঘিরেই একদিন শোষণ আর বঞ্চনার অবসানে মুক্তিকামী বাঙালি স্বাধীকারের স্বপ্ন বুনেছিল। আর আজ বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রতিটি সোপানে, বিশ্বদরবারে বাঙালির মাথা উঁচু করা দাঁড়াবার
আজ দলের নেত্রী পাঁচ বারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্বের ইতিহাসে নজির সৃষ্টি করেছেন। বিশ্বের একমাত্র নেত্রী যিনি ৪৭ বছর ধরে দলের সফল নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন এবং যিনি পাঁচবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এই যাত্রায় তার ওপর নজিরবিহীন জীবনহানির হামলার ঘটনাও আছে। সব রাজনীতিবিদ এবং গবেষকদের কাছে তিনি এক বিস্ময়।
১৯৭৫ সালে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির হাতে বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যার পর অনেকের ধারণা ছিল আওয়ামী লীগের অপমৃত্যু ঘটল। একটানা সেনা শাসন, সেনা সমর্থিত সরকার এবং সাম্প্রদায়িক শক্তির সহযোগীদের সরকার দেশ শাসন করায় দীর্ঘসময় আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব বিপন্ন মনে হয়েছিল। শেখ হাসিনা তখন আশ্রয় নিয়েছিলেন ভারতে। শেখ হাসিনা নির্বাসিত জীবন যাপনে অস্থির হয়ে উঠেছিলেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলা নিয়ে। নির্বাসিত সময়ে তিনি ভারত থেকেই হাল ধরলেন দুর্বল আওয়ামী লীগের। দেশে ফিরলেন ১৯৮১ সালে। তরুণ নেত্রীর বাগ্মিতায় জনতা উপলব্ধি করল বঙ্গবন্ধু তনয়াই দেশের ভবিষ্যৎ।
১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ বাংলাদেশের ইতিহাসে কালো অধ্যায়। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা যখন প্রধানমন্ত্রী হলেন তখন বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে হতদরিদ্র দেশ। এশিয়া জুড়ে তখন আর্থিক সংকট। এই সময়ে তার প্রথম ভারত সফর ঐতিহাসিক হয়ে উঠল। কূটনৈতিক দক্ষতা দেখিয়ে তিনি ভারতের সঙ্গে ত্রিশ বছরের গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি করলেন। শেখ হাসিনার সেই সরকার ধারাবাহিকতা রাখতে পারেনি। মুদ্রাস্ফীতিকে হাতিয়ার করে বিরোধী শক্তি ক্ষমতা দখল করে। পরাজিত হলেও ৪০ শতাংশ ভোট পেলেন। বিরোধী নেত্রী হয়েও হাল ছাড়েননি। তিনি মানুষের কাছে গেলেন। এই সময় তার ওপর প্রাণঘাতী হামলা হয়। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের অনেকে প্রাণ হারান। এর পরেও হামলা হয়। বহু নেতা প্রাণ হারান। কোনোক্রমে প্রাণে বাঁচেন শেখ হাসিনা। তাও দমে যাননি। নির্বাচনে পরাজয়ের পর কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয় সেটা শেখ হাসিনা দেখিয়েছেন, যেখান থেকে আগামীর প্রজন্ম রাজনীতির শিক্ষা নিতে পারে। তাকে রাজনীতি থেকে অপসারণের লক্ষ্যে সেনা, বিদেশি শক্তির মদদে তথাকথিত সুশীল সমাজের ষড়যন্ত্রের কথা আজ সবাই জানে। যার বিচার এখন চলছে। মানুষের আশীর্বাদ পেলেন শেখ হাসিনা ২০০৮ সাল। রাজনীতিতে তো ইতিহাস আগেই তৈরি করেছেন, কিন্তু এই পর্বে বিরোধী দল থেকে নির্বাচনে জিতে শাসন ক্ষমতা নিয়ে তিনি ক্রমাগত রাষ্ট্র পরিচালনায়ও ইতিহাস তৈরি করে চলেছেন। অবশ্য, বিরোধীরা নীরব ছিল না। হাসিনা সরকারকে বিপদে ফেলতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে বিদ্রোহ ঘটানো হয়েছিল। দক্ষতার সঙ্গে তিনি কেবল বিদ্রোহই দমন করেননি, সেনাবাহিনীর অকুণ্ঠ প্রশংসা আদায় করে নিলেন। শেখ হাসিনার জন্ম হলো দক্ষ প্রশাসক রূপে।
এই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের বিচার শুরু করা। এর ফলে শেখ হাসিনা সরকারকে কেবলমাত্র দেশের অভ্যন্তরে নয়, পশ্চিমা শক্তির রোষানলেও পড়তে হয়েছিল। তাদের ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং অভিযুক্তদের সাজা বাস্তবায়ন করা শুরু করলেন। সবটাই হয়েছে আইন অনুযায়ী। তিনি আওয়ামী লীগকে গড়ে তুললেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদারপন্থি, গণতান্ত্রিক ও বাঙালি জাতীয়বাদের ভিত্তিতে। তাকে অনেক বিরোধিতার সম্মুখীনও হতে হয়েছে। বিশেষ করে উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে। এই চ্যালেঞ্জ সামলাতে তিনি বাস্তবতার নিরিখে পদক্ষেপ নিয়ে যে দৃঢ়তা দেখিয়েছেন, সেটা তাকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দক্ষতা নিয়ে অনেক কিছু বলা হয়। যেটা কম আলোচিত সেটা হলো তার আর্থিক নীতি। বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশকে কীভাবে উন্নত দেশে রূপান্তরিত করার যে রূপরেখা তিনি তৈরি করেছেন, তাকে কোনো কোনো গবেষক ‘হাসিনোমিকস’ আখ্যা দিয়েছেন। বিশ্বের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই নিয়ে গবেষণাও চলছে। যা সব উন্নয়নশীল দেশকে পথ দেখাবে। একই সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়নে শেখ হাসিনার অবদান ব্যাপক। পরিবারের চালিকাশক্তি নারী। এই কারণেই নারীর হাতে ক্ষমতা দেওয়ার প্রক্রিয়া তাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।
২০০৮ নির্বাচনের আগে ইশতেহার উল্লিখিত ‘ভিশন ২০২১ এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপরেখা’ এক অনন্য দলিল। আজ বাংলাদেশ দ্রুত উন্নয়নশীল মধ্য আয়ের দেশে। তাই জাতিসংঘ স্বল্পোন্নত রাষ্ট্র থেকে উন্নয়নশীল দেশের তকমা দিয়েছে। কার্যত মাত্র ১৫ বছর রাষ্ট্র পরিচালনা করে এই স্বীকৃতি পাওয়া বিরল। ২০২৪ নির্বাচনের পূর্বে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়া এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফের শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। এর মূল ভিত্তি হবে আয়ের বৈষম্য দূর করা এবং জীবনযাত্রার মান আধুনিক করে তোলা।
শেখ হাসিনার মানবিক দিক সম্পর্কে একটা বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়। প্রতিবেশী মিয়ানমারে যখন রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চলছে। তখন তিনি মানবিক কারণেই দশ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে সম্মান আদায় করে নেন। তার বিখ্যাত উক্তি ‘১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারলে আরও সাত লাখকেও খাওয়াতে পারব’। এমন নজির কোথায়? তার আগে চট্টগ্রাম পার্বত্য চুক্তি শেখ হাসিনার কর্মদক্ষতার এক মাইলফলক। বিশ্বের মধ্যে সম্ভবত হাতেগোনা কয়েকটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে আওয়ামী লীগ একটি যারা জলবায়ু রক্ষার কর্মসূচি নির্বাচনের ইশতেহারে ঘোষণা করেছে।
শেখ হাসিনার কূটনৈতিক দক্ষতার একটি নিদর্শন ভারতের সঙ্গে ৪০ বছরের বকেয়া থাকা ছিটমহল বিনিময় এবং স্থল সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষর। তারা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে গণমানুষের কল্যাণে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই।
মো. রিপন হোসাইন, সাবেক ছাত্রনেতা
তালা উপজেলা ছাত্রলীগ।তালা,সাতক্ষীরা।
© Deshchitro 2024