আমি লিখবো বলে ভেবেছিলাম একটি নদীর গান

রিক্ত হলেও লিখার জন্য এই নদীই ছিল আমার প্রাণ;

লিখবো আমি কেমন করে নদীই যে মোর মরা!

তব জল-কল্লোল নিয়েছে কেঁড়ে অনবরত খরা!! 


বক্ষে তোমার চলতো কিস্তি, চলতো রঙের খেঁয়া

আজ পাড়ে তোমার ফোঁটে না পদ্ম, ফোঁটে না শালুক-কেয়া;

প্রভাতে-প্রদোষে দেখেছি তোমায় জলে থাকতে পূর্ণ

জলের সেতারা বাজিয়ে তুমি জুড়াতে সবার কর্ণ!!


আজ যায় না বধু, যায় না শিশু তোমাতে করিতে স্নান 

মাছ না পেয়ে জমির জেলে ঘরে ফিরে হয়ে ম্লান;

রূপযশ আর খ্যাতিতে তুমি চারিদিকে ছিলে দুর্মর

উদীচীর ওই বাঁশবাগানে আর শুনিনা পাতার মর্মর। 


শৈশব তুমি, কৈশোর তুমি, তুৃমি যৌবনের কিয়দাংশ 

পাটাতনে বসে জারি সারিতে ঘুচতো হিয়ার পাংশু;

এখন বর্ষা ক্ষণেও আসে না জল, আসে না কোনো মাছ

নদীর বুকে দিব্যি চলে ওই লোভী কৃষকদের চাষ!!


আজ বুকের মধ্যে ব্যামো করেছে তুমি হারাবার শোকে

যাচ্ছো মরে পড়ে না কভু কোনো মানুষের চোখে ; 

করজোড় করি রাষ্ট্রের কাছে করে দিতো যদি খনন

তব সংস্রবে উঠতো গড়ে নদী প্রেমিদের মনন!!

•••••


লেখক: আসিফ আহমেদ 

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024